দোহাজারী রেঞ্জে বন উজাড় ও ‘মামলা বাণিজ্য’র অভিযোগ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

সারাদেশ

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন দোহাজারী রেঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বন উজাড়, মূল্যবান গাছ পাচার, বনভূমি দখল ও কথিত ‘মামলা বাণিজ্য’র

2026-08-20T15:06:08+00:00
2026-08-20T15:06:08+00:00
  বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬,
৫ ভাদ্র ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
দোহাজারী রেঞ্জে বন উজাড় ও ‘মামলা বাণিজ্য’র অভিযোগ
অস্বীকার এসিএফের
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন দোহাজারী রেঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বন উজাড়, মূল্যবান গাছ পাচার, বনভূমি দখল ও কথিত ‘মামলা বাণিজ্য’র অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এ. কে. এম. ইমরুল কায়েস।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দোহাজারী রেঞ্জের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় রাতের আঁধারে সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। পরে নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে ট্রাক ও ছোট যানবাহনের মাধ্যমে এসব কাঠ অন্যত্র পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি দোহাজারী রেঞ্জের বয়তারানি বিটের আওতাধীন বান্দরবান সীমান্তবর্তী সুলতানপুর এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিনে বনাঞ্চলের বিভিন্ন অংশে গাছ কাটার চিত্র দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তাদের অভিযোগ, বন বিভাগের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ধোপাছড়ি, দুধপুকুরিয়া, কামলাছড়ি ও বয়তারানি বিটের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে সামাজিক বনায়নের গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পাচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বনভূমি দখল করে প্লট আকারে বিক্রি এবং অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে গত বছর চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক এ. কে. এম. ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালনার কথা জানা গেছে। ওই অভিযানে প্রায় দুই ট্রাক সেগুন কাঠ জব্দ করা হয় এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পরবর্তীতে মামলায় প্রকৃত অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ‘মামলা বাণিজ্য’র অভিযোগও আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বান্দরবান সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চক্র নিয়মিত বন থেকে গাছ কেটে বিক্রি করছে। এসব কর্মকাণ্ডে বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতা রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। একই এলাকায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে এসিএফ এ. কে. এম. ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৃত অভিযুক্তদের আড়াল এবং নিরীহ ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এসিএফ এ. কে. এম. ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। এ ধরনের কোনো কাজের সঙ্গে আমি বা আমার দপ্তর জড়িত নই। কিছু কুচক্রী মহল আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) উপবনরক্ষক মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, বন রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বন উজাড়, কাঠ পাচার ও বনভূমি দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: