জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা: ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

জামালপুর সংবাদদাতা

সারাদেশ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত

2026-08-20T15:32:06+00:00
2026-08-20T15:32:06+00:00
  বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬,
৫ ভাদ্র ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা: ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন
জামালপুর সংবাদদাতা
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া গ্রামের সাখাওয়াত (৩২), সোহেল (৩০), আল আমিন (৩০), সাদ্দাম (৩০), উজ্জল (৩০), অন্তর (৩০) ও ফয়জুর (৩২)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, চাঁন মিয়া (৫১), মো. জিয়ার (৪৬), শাহ আলম (৪২), কাওসার (৩০), রিফাত (৩২), সুমন (৩২) ও মোস্তফা (৪০)।

মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ।

পুলিশ মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে বাড়িটির অবস্থান জানতে চায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে মহর ও স্বপনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা-এমন অভিযোগ রয়েছে মামলায়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান সাখাওয়াত ও সোহেল। পরে সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটক্ষেতে নেওয়া হয়।

সেখানে তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পরে গালকেটে করে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ওই পাটক্ষেত থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মহর আলী ছিলেন গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে এবং মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার ভাতিজা স্বপন মিয়া ছিলেন একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ও সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলার রায় ঘোষণার পর বাদী জাহাঙ্গীর আলম সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।



Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: