‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ মুক্তির ১৫ বছর পরও সিনেমাটির বেশ কিছু দৃশ্য দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে। এর মধ্যে অন্যতম ক্যাটরিনা কাইফ ও হৃতিক রোশনের সেই আকস্মিক চুম্বন দৃশ্য। সম্প্রতি সেই দৃশ্যের নেপথ্যের গল্প জানিয়েছেন সিনেমাটির পরিচালক জোয়া আখতার।
১৭ আগস্ট মুনসুন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এক আলোচনায় জোয়া আখতার জানান, লায়লা চরিত্রটি শুরু থেকেই ছিল স্বাধীনচেতা ও মুহূর্তকে উপভোগ করা এক তরুণীর। কিন্তু চিত্রনাট্যে তার সেই বৈশিষ্ট্যের যথেষ্ট প্রকাশ ঘটছিল না। তাই গল্পের এক পর্যায়ে এমন একটি দৃশ্য প্রয়োজন ছিল, যা লায়লার স্বভাবকে স্পষ্ট করে তুলবে। সেই ভাবনা থেকেই আসে চুম্বনের দৃশ্যটি।
সিনেমায় দেখা যায়, অর্জুন বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার সময় লায়লা হঠাৎ তাকে চুমু খেতে ছুটে যায়। জোয়ার মতে, এটি ছিল লায়লার চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত। কারণ, সে ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি হিসাব না করে বর্তমান মুহূর্তটাকেই উপভোগ করতে চায়।
জোয়া আখতার জানান, দৃশ্যটির মধ্যে রূপকথার প্রচলিত ধারণাকেও উল্টে দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ গল্পে রাজপুত্রের চুম্বনে ঘুমন্ত সুন্দরী জেগে ওঠে। কিন্তু এখানে অর্জুনই যেন সেই ‘স্লিপিং বিউটি’, আর লায়লা তার জীবনকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ করে দেওয়া রাজপুত্র।
ক্যাটরিনার প্রথম অন-স্ক্রিন চুম্বন
এই দৃশ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ক্যাটরিনা কাইফের ক্যারিয়ারের একটি বিশেষ অধ্যায়। জোয়া জানান, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’তে অভিনয়ের আগে ক্যাটরিনার কোনো অন-স্ক্রিন চুম্বনের অভিজ্ঞতা ছিল না।
চিত্রনাট্য পড়ার সময় বিষয়টি নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ক্যাটরিনা। জোয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিনেত্রী বুঝতে পেরেছিলেন যে গল্পের প্রয়োজনে দৃশ্যটি রাখা হয়েছে এবং পেশাদারভাবেই সেটি গ্রহণ করেছিলেন।
তাই দৃশ্যটি শুধু রোমান্টিক মুহূর্ত হিসেবেই নয়, লায়লা ও অর্জুনের চরিত্রের পার্থক্য তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
সিনেমায় হৃতিকের অর্জুন চরিত্রটি শুরুতে ক্যারিয়ার, অর্থ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকে যে বর্তমানকে উপভোগ করার সুযোগ পায় না। বিপরীতে লায়লা জীবনকে নিজের মতো করে উপভোগ করতে চায়। ফলে লায়লার উপস্থিতি ধীরে ধীরে অর্জুনের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনে।
২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ পরিচালনা করেন জোয়া আখতার। এতে ক্যাটরিনা কাইফ, হৃতিক রোশন, ফারহান আখতার, অভয় দেওল ও কালকি কোচলিন অভিনয় করেন। বন্ধুত্ব, প্রেম, ভ্রমণ ও জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গির গল্পে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তির এত বছর পরও দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয়।