বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) যথাযোগ্য মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’। বুয়েট অডিটরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক এবং আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে দেশের ছাত্র-জনতা যে সাহস ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছে, তা জাতীয় ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে তাঁদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, সংকটময় সময়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম জাতির বিবেক হিসেবে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটিয়ে যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে।
বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক বলেন, দেশের বিভিন্ন সংকট ও ক্রান্তিকালে বুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মেধা, সাহস ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানও এর ব্যতিক্রম নয়। আন্দোলনের শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যতেও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে বুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অ্যালামনাইদের ভূমিকা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে উন্নত, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বুয়েটের কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম তিশা ও স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেহুল ইসলাম রোহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্য দেন। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. সাব্বির মোস্তফা খান, পুরকৌশল বিভাগের প্রভাষক আনাস বিন ফারুক এবং পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের প্রভাষক ফারিহা ইসলাম।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বুয়েটের পক্ষ থেকে শহীদ আবু সাঈদের ভাই, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই, শহীদ মো. ইসমাইল হোসেন রাব্বির বোন, শহীদ শেখ ফাহমিন জাফরের মা এবং বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের বাবার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বুয়েটের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, ইনস্টিটিউট ও সেন্টারের পরিচালক, দপ্তর ও পরিদপ্তরের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।