
মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, জিইসি, প্রবর্তকসহ নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ব্যাংকপাড়া তলিয়ে গেছে পানির নিচে। বাধ্য হয়ে পানি মাড়িয়েই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে পথচারীদের।
সকালে সড়কে পানি জমে থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। অফিসগামী আবিদুর রহমান বলেন, ‘সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখি সড়কে পানি জমে আছে। পানি মাড়িয়েই অনেক কষ্টে অফিসে যেতে হচ্ছে।’ বৃষ্টি হলেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বলেও জানান তিনি।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসমাইল মিয়া জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। আর সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা—মাত্র তিন ঘণ্টাতেই হয়েছে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
প্রবল বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় সকাল থেকেই যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি আরও বাড়লে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ দুটিই ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা নগরবাসীর।