
নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশের অভিযানে এক কুখ্যাত গরু চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি গরুর লালন-পালন চলছে থানায়। প্রায় এক মাস ধরে চুক্তিভিত্তিক একজনের মাধ্যমে গরুগুলোর দেখভাল করছেন থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল। এরই মধ্যে উদ্ধার হওয়া একটি গরু এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।
ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান, গত জুলাই মাসে নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলার কয়েকটি স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পর্যালোচনা করে কয়েকটি চৌকস দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে একজন কুখ্যাত গরু চোরকে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরে নাটোর জেলার নলডাঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাবের সহযোগিতায় নওগাঁর কুখ্যাত গরু চোর আসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন ১৫ জুলাই ভোররাতে আসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামে অসিতের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অসিতকে আটক করে তার গোয়ালঘর থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর মধ্যে একটি ছিল গর্ভবতী।
এরপর গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলো রাণীনগর থানা প্রাঙ্গণে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। পরে চুক্তিভিত্তিক একজনের মাধ্যমে গরুগুলোর নিয়মিত দেখভাল করা হচ্ছে। সম্প্রতি একটি গরু এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি গরুই সুস্থ ও ভালো আছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও নিয়মিত করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করা না গেলে আগামী সপ্তাহে আদালত থেকে গরুগুলো প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির আদেশ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। নিলামে গরুগুলো বিক্রি হলে বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে গরুগুলোর দেখভালে হওয়া ব্যয় সমন্বয় করা হবে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রতি মানবিক আচরণ এবং নিয়মিত যত্ন নেওয়ার কারণে স্থানীয়দের প্রশংসা পাচ্ছেন রাণীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল।