কবরের পাশে ওঝার কাণ্ড!

সখীপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

সারাদেশ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া এক নারীকে দাফনের দুই দিন পর ‘জীবিত’ করার দাবি করে কবরের পাশে ঝাড়ফুঁক করেছেন

2026-08-16T18:54:24+00:00
2026-08-16T18:54:24+00:00
  সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
কবরের পাশে ওঝার কাণ্ড!
সখীপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম 
সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া নারীকে দাফনের দুই দিন পর কবরের পাশে ঝাড়ফুক করছেন ওঝা (পাঞ্জাবি পরিহিত)। আশপাশে উৎসুক লোকজনের ভিড়ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া এক নারীকে দাফনের দুই দিন পর ‘জীবিত’ করার দাবি করে কবরের পাশে ঝাড়ফুঁক করেছেন এক ওঝা। এ ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

মৃত নারীর নাম হাসনা বেগম (৫৮)। শনিবার (১৬ আগস্ট) উপজেলার চতলবাইদ গ্রামে তাঁর কবরের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিষধর সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন হাসনা বেগম। স্বজনেরা তাঁকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চতলবাইদ গ্রামে তাঁর মেয়ে খালেদা বেগমের বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাঁকে।

স্থানীয়দের দাবি, সাপে কাটার খবর পেয়ে গাজী মিয়া নামের ওই ওঝা এলাকায় আসেন। তিনি দাবি করেন, হাসনা বেগম মারা যাননি। পরে কবরের এক পাশে সামান্য খুঁড়ে সেখানে গন্ধ শুঁকে মরদেহে পচন ধরেছে কি না বোঝার চেষ্টা করেন তিনি।

ওঝার দাবি, তিনি কবর থেকে তেলের গন্ধ পেয়েছেন। এরপর তাঁর কথায় কয়েকজন উৎসুক মানুষও কবরের পাশে গিয়ে গন্ধ শোঁকার চেষ্টা করেন।

মৃতের মেয়ে খালেদা বেগমকে ওই ওঝা জানান, আগামী মঙ্গলবার তিনি আবার কবরের পাশে আসবেন। তখন কবর থেকে দুর্গন্ধ না পাওয়া গেলে মরদেহ উত্তোলন করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে হাসনা বেগমকে ‘জীবিত’ করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি। তবে মরদেহে পচন ধরলে আর তা সম্ভব নয় বলেও জানান ওই ওঝা।

খালেদা বেগম বলেন, ওঝার কথায় একসময় তাঁর মনে আশা তৈরি হয়েছিল। মাকে আবার জীবিত পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছিলেন তিনি। তবে পরে ওঝা ফোন করে জানান, রাতে ধ্যানে বসে তিনি দেখেছেন হাসনা বেগম আর বেঁচে নেই।

পরিচয় গোপন রেখে গাজী মিয়ার সঙ্গে কথা বললে তিনিও দাবি করেন, আগের দিন হাসনা বেগম জীবিত ছিলেন। তবে বর্তমানে তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি ওই ওঝা।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একজন মানুষকে মৃত ঘোষণা করার পর তাকে আবার জীবিত করার দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন। সাপের কামড়ে মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং ওই ওঝাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা উচিত।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সাপের কামড়ের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: