দেশের স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসক সংকট কাটাতে সরকার দ্রুত ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এর আগে বেলা ১১টার পর তিনি মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। পরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি যাচাই করেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবার মান ও নানা সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মানও যাচাই করেন মন্ত্রী। তিনি নিজেই হাসপাতালের খাবার খেয়ে দেখেন। পরে বাথরুমসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থাপনাও ঘুরে দেখেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের চিকিৎসক সংকট অনেকটাই কমবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও গতিশীল হবে।
তিনি জানান, আগামীতে ১৫১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নারীদের জন্য ২০টি এবং শিশুদের জন্য ১৫টি বিশেষায়িত শয্যা রাখা হবে। পাশাপাশি কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য পাঁচটি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে জেলা সদর হাসপাতালের মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা উপজেলা পর্যায়েও নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
এ সময় তিনি বিগত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে লুটপাট হয়েছে, যার প্রভাব এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মিলনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।