অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে চারদিনেই হারিয়ে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। ঐতিহাসিক এই জয়ের অন্যতম প্রধান নায়ক পেসার হাসান মাহমুদ। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।
প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে চাপে থেকেই মূল টেস্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে প্রথম দিনেই হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় দল। তার ৬ উইকেটের দুর্দান্ত স্পেলে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থামে ১৯৮ রানে।
জবাবে তানজিদ হাসানের অভিষেক টেস্ট শতক এবং ব্যাটারদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। এরপর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় সফরকারীরা।
ম্যাচ শেষে হাসান মাহমুদ জানান, এই সাফল্যের পেছনে ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি, প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নিয়ে বিশ্লেষণ এবং সুনির্দিষ্ট দলীয় পরিকল্পনা। ম্যাচ শুরুর আগে অনুশীলনে নিজেদের শতভাগ দেওয়ার পাশাপাশি ফলাফলের চিন্তা না করে সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখার কথাও জানান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে কোচদের সঙ্গে বিস্তারিত পরিকল্পনা ও ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছিল বলে জানান হাসান। মাঠে সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করেছেন তারা। বোলিংয়ের কৌশল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বোলাররা ধৈর্য ধরে নির্দিষ্ট লাইন ও লেন্থে বল করে গেছেন, যার ফলও পেয়েছেন তারা।
ঐতিহাসিক এই জয় নিয়ে দেশের মানুষের প্রতিক্রিয়ার কথাও তুলে ধরেন হাসান। তার প্রত্যাশা, বাংলাদেশের মানুষ এই জয় নিয়ে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠবে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই জয়কে নিজের ও দলের জন্য গর্বের বলে উল্লেখ করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের এতদিনের অর্জনগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাওয়া এই জয় বিশেষ জায়গা করে নেবে।
শান্ত বলেন, ‘যেকোনো ফরম্যাট মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে বড় জয়। আমরা বিশ্বাস করি, সামনেও আমরা নতুন কিছু করে দেখাতে পারব।’
মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই চাপে রেখেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। পেসারদের দাপটের পাশাপাশি টপ ও লোয়ার অর্ডারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। ফলে এই জয় কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও দলীয় প্রচেষ্টার ফল।
নিজেদের পারফরম্যান্সে গর্বিত শান্ত বলেন, ‘সত্যি খুব আনন্দ লাগছে। নিজেকে নিয়ে এবং পুরো দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ভীষণ গর্ব হচ্ছে। আমরা অনেক কষ্ট করেছি। আর এ ধরনের একটা জয় পেয়ে সত্যি অনেক ভালো লাগছে।’
ডারউইনের এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাওয়া এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নিঃসন্দেহে যোগ করেছে নতুন এক সোনালি অধ্যায়।