
ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, চতুর্থ দিনেই ফয়সালা হয়ে যেতে পারে ডারউইন টেস্টের। বাংলাদেশের জয় এড়াতে হলে অস্ট্রেলিয়াকে এখন বড় প্রতিরোধ গড়তে হবে।

এর আগে মেহেদী হাসান মিরাজের দৃঢ় ব্যাটিং এবং বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারের অসাধারণ লড়াইয়ে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে বাংলাদেশ। ১৫৪ বলে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন মিরাজ। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। শেষ দিকে ইবাদতের বিশাল ছক্কাসহ টেলএন্ডারদের কার্যকর ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের লিড পেরিয়ে যায় ২০০ রান।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২২৮ রানে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে করা ৪২৭ রান এখনো সর্বোচ্চ।
বড় লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও স্বস্তিতে নেই অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকেই তাদের ওপর চাপ তৈরি করেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় ওভারে জেক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করার পর ট্রাভিস হেডকেও ফেরান তিনি। হেড মাত্র ১৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

এরপর মারনাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তৃতীয় উইকেটে ৩৬ রানের জুটি গড়েন তারা। তবে তাইজুল ইসলামের বলে ৩১ রান করা লাবুশেন বোল্ড হলে আবারও বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। কিছুক্ষণ পর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ৪৪ রানে আউট হন স্মিথ।
১২২ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়- তারা কি আদৌ ম্যাচটিকে পঞ্চম দিনে নিতে পারবে?
দিন শেষে ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ এবং অ্যালেক্স ক্যারি ৭ রানে অপরাজিত আছেন। তাদের জুটিই এখন অস্ট্রেলিয়ার শেষ বড় ভরসা। তবে বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুত এই জুটি ভাঙতে পারলে চতুর্থ দিনেই ম্যাচের ফল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য আরেকটি বড় চাপ ইতিহাস। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের বেশি পিছিয়ে কোনো ম্যাচে জিততে পারেনি তারা। ডারউইনে সেই রেকর্ড ভাঙতে হলে এবার তাদের করতে হবে অভূতপূর্ব প্রত্যাবর্তন।

তবে ম্যাচ এখনো শেষ হয়নি। গ্রিন ও ক্যারি বড় জুটি গড়তে পারলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। বাংলাদেশের সামনে তাই শেষ বাধা অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দেওয়া। আর সেটি সম্ভব হলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে স্মরণীয় এক টেস্ট জয়।