ইরানে হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলেও এ জন্য কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোর স্বার্থে তেলের বাড়তি দাম মেনে নেওয়া যুক্তিযুক্ত।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার জন্য জনগণকে কিছুটা বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা তেলের জন্য একটু বেশি টাকা দিচ্ছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এটা করছেন যাতে একটি খুব খারাপ দেশ পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়।’ একই সঙ্গে তিনি ইরানকে বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান মদদদাতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
জ্বালানির দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না ট্রাম্প। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি গ্যালন জ্বালানির জন্য চার ডলারের বেশি দিতে হচ্ছে, তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এ জন্য তিনি কখনো ক্ষমা চাইবেন না বলেও স্পষ্ট করেন।
এর আগে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছিলেন, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে দূরে রাখা দুটিই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় দাম চার ডলার ছাড়িয়েছে। এক বছর আগে একই সময়ে গড় দাম ছিল প্রায় তিন ডলার।
তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে একমত নন অনেক মার্কিন নাগরিক। সিএনএনের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মানুষের জীবন ও অর্থের যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তার যথেষ্ট যৌক্তিকতা নেই।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান এবং জ্বালানির বাড়তি দামের বিষয়ে তাঁর মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।