চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সাড়ে সাত শতাধিক অলাভজনক ও অনুৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দেশের পার্লামেন্টে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে এই বড় ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেন তিনি। সরকারি খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অদক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিগত তিন দশকের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ আদালত গঠনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান।
প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো জানান, রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে গত বছর 'দানান্তারা' নামক সার্বভৌমিক সম্পদ তহবিল (সভারেন ওয়েলথ ফান্ড) গঠনের পর দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চিত্র সামনে আসে। তখন পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সংখ্যা ১ হাজার ৭৪টি—যা পূর্বে ধারণাকৃত ৩০০ থেকে ৪০০টির তুলনায় অনেক বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশ রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়িয়ে চলেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বছরের পর বছর লোকসানে থাকা সত্ত্বেও এসব সংস্থা কৃত্রিম বা কাগজে-কলমে মুনাফা দেখিয়ে আসছিল।
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই করপোরেট পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে সুবিয়ান্তো জানান, ইতোমধ্যে ২৯০টি অকার্যকর সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের শুরুর আগেই সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০০টিতে সীমিত করার চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে কেবল সেসব সংস্থাই টিকে থাকবে যেগুলো প্রকৃতপক্ষে উৎপাদনশীল এবং অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম।
ইতিমধ্যেই এই সংস্কার কার্যক্রমের সুফল হিসেবে সরকারের বড় অঙ্কের পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বেতন-ভাতা কাটছাঁট, ভবন ও যানবাহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং অহেতুক ব্যবসায়িক ভ্রমণ বন্ধের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫০ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রূপিয়া (প্রায় ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি) বেঁচে গেছে। চলতি বছরজুড়ে এই প্রশাসনিক ব্যয় সাশ্রয়ের পরিমাণ ৭০ ট্রিলিয়ন রূপিয়া অতিক্রম করবে বলে সরকার আশা প্রকাশ করছে।
এদিকে, বিগত ৩০ বছর ধরে এসব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা তদন্তের জন্য একটি বিশেষ ‘অ্যাডহক’ আদালত গড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইন্দোনেশীয় সরকার। তবে একই ভাষণে সুবিয়ান্তো আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ সাধারণ ক্ষমার বিধান রাখারও প্রস্তাব করেন। এর ফলে যেসব কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপক নিজ থেকে ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হবেন, তারা আইনি ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবেন।