বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাচ্ছে বুধবার। চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো পুরোপুরি ঢেকে দিলে সৃষ্টি হয় এই বিরল দৃশ্য। গ্রহণের মূল ছায়াপথের আওতায় থাকা কয়েকটি অঞ্চলে দিনের বেলাতেই সাময়িকভাবে নেমে আসবে রাতের মতো অন্ধকার।
এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের প্রধান দৃশ্যপথের মধ্যে রয়েছে আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন ও উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের একটি ছোট অংশ। বিশেষ করে স্পেন থেকে সূর্যগ্রহণের সময় তৈরি হবে বিরল সূর্যাস্তের দৃশ্য।
এ ছাড়া উত্তর আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপের বেশির ভাগ অঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। যুক্তরাজ্য থেকেও প্রায় ৯৫ শতাংশ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডে পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব হবে প্রায় ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ড।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, স্পেনের ওপর দিয়ে সূর্য যখন দিগন্তের দিকে অস্ত যাবে, তখন পূর্ণগ্রাস শেষ হয়ে গেলেও সূর্যকে অর্ধচন্দ্রাকৃতিতে দেখা যেতে পারে। ফলে আকাশে তৈরি হবে অসাধারণ এক দৃশ্য।
সূর্যগ্রহণের পরপরই বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে পারসিডস উল্কাবৃষ্টি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফলে একই সময়ে আকাশপ্রেমীরা দুটি উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগের সুযোগ পাবেন।
চোখের নিরাপত্তায় সতর্কতা
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সরাসরি দেখার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য অবশ্যই অনুমোদিত এক্লিপ্স চশমা ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস কিংবা ফিল্টারবিহীন ক্যামেরা, দূরবীন বা বাইনোকুলারের মাধ্যমে সূর্যের দিকে তাকানো চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
পূর্ণগ্রাসের একেবারে ক্ষণস্থায়ী পর্যায়ে সূর্যের শেষ আলোকবিন্দু হিরের মতো জ্বলে উঠলে সেটিকে ‘ডায়মন্ড রিং’ বলা হয়। এর আগে চাঁদের উপত্যকার ফাঁক দিয়ে ছোট ছোট আলোর বিন্দু দেখা গেলে তাকে বলা হয় ‘বেইলি’স বিডস’।
পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল করোনা এবং ক্রোমোস্ফিয়ারও দৃশ্যমান হতে পারে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় পরিবেশে পরিবর্তন আসে এবং পশুপাখির আচরণেও অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।
যারা সরাসরি এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে পারবেন না, তাদের জন্য বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ও পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকে অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এবারের গ্রহণের দৃশ্য যারা উপভোগ করবেন, তাদের জন্য পরবর্তী বড় আকর্ষণ অপেক্ষা করছে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট। সেদিন স্পেন, মরক্কো, মিসর, সৌদি আরব ও ইয়েমেনসহ কয়েকটি দেশ থেকে ছয় মিনিটেরও বেশি সময় ধরে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে।