একটি পরিত্যক্ত ছাতা। ভেতরে আইইডি। কোথাও ট্রাভেল ব্যাগে প্রেসার কুকারসদৃশ বোমা। কোথাও পরিত্যক্ত ড্রামে মিলছে বড় আকারের বিস্ফোরক। আবার একটি বাড়ি ঘিরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হচ্ছে একসঙ্গে একাধিক বোমা, গানপাউডার ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম। ঘটনাস্থল আলাদা, সময়ের ব্যবধানও খুব বেশি নয়। তবে বিস্ফোরক উদ্ধারের ধরন, ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও কিছু আলামতের মধ্যে মিল থাকায় তদন্তকারীদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
প্রশ্ন উঠেছে, এগুলো কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো সংগঠিত নিষিদ্ধ নেটওয়ার্ক? কারা তৈরি করছে এসব বিস্ফোরক? কোথা থেকে আসছে উপকরণ? কারা সরবরাহ ও পরিবহন করছে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পুরনো কোনো নিষিদ্ধ জঙ্গি নেটওয়ার্ক কি নতুন কৌশলে আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে?
রাজধানীর মতিঝিল থেকে মিরপুর, ফার্মগেট; এরপর সাভার-আশুলিয়া হয়ে বরিশাল, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহে বোমাতঙ্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। কোনো কোনো ঘটনায় প্রকৃত বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে, আবার কিছু ঘটনায় বোমা সন্দেহে পরীক্ষা করে মিলেছে সাধারণ ময়লা-আবর্জনা। কিন্তু প্রকৃত বিস্ফোরক উদ্ধারের পাশাপাশি একের পর এক ‘ফলস অ্যালার্ম’ও জনমনে তৈরি করছে আতঙ্ক।
১২ দিনে ১৭ বিস্ফোরক : রাজধানীর অদূরে সাভার-আশুলিয়া এখন তদন্তকারীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। গত ৩০ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় ১৭টি বিস্ফোরক উদ্ধারের তথ্য সামনে এসেছে। কোথাও প্রেসার কুকারসদৃশ বোমা, কোথাও পাইপ বোমা, আবার কোথাও পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম। ৩০ জুলাই রাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় একটি দোকানের সামনে পড়ে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকার আকৃতির টাইমারযুক্ত বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি নিষ্ক্রিয় করে। এরপর গত ১১ আগস্ট রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক এলাকায় একটি মাদ্রাসা ও মসজিদের পাশে পরিত্যক্ত ড্রামের ভেতর পাওয়া যায় প্রায় ১৫ কেজি ওজনের একটি প্রেসার কুকার বোমা ও রিমোট কন্ট্রোল। উদ্ধার হওয়া বোমা ও রিমোটে ‘আর ১’ লেখা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই রাতে তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪টি পাইপ বোমা এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের তথ্যও প্রকাশ্যে আসে। এর পরদিন ১২ আগস্ট ভোরে হেমায়েতপুরে একটি বাড়ি ঘিরে অভিযান চালিয়ে আরও নয়টি বিস্ফোরক, বিপুল পরিমাণ গানপাউডার ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।
অল্প সময়ের মধ্যে একই ভৌগোলিক এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলো কি একই উৎস থেকে এসেছে? এগুলোর মধ্যে কোনো সাংগঠনিক যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
একজনকে অনুসরণ, এরপর বাড়িতে অভিযান : পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ থেকে অনুসরণ করে হেমায়েতপুর এলাকায় আরিফ হোসেন (২৮) নামে একজনকে আটক করা হয়। বাস থেকে নামার পর তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি বিস্ফোরক, একটি চাকু ও একটি লাইটার পাওয়া যায় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর প্রাইমারি স্কুলের পেছনে একটি বাড়ি ঘিরে অভিযান চালানো হয়। সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা এতে অংশ নেন। দীর্ঘ অভিযান শেষে উদ্ধার করা হয় নয়টি বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।
এখন তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরিফের সঙ্গে ওই বাড়ির যোগাযোগের বিষয়টি। বাড়িটির মালিক বা বাসিন্দাদের সঙ্গে তার কী ধরনের সম্পর্ক? বিস্ফোরকগুলো সেখানে কত দিন ধরে ছিল? এগুলো কি শুধু মজুদ করা হয়েছিল, নাকি সেখানে কোনো পর্যায়ে বিস্ফোরক তৈরির কাজও চলত? এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, মোবাইল ফোনের তথ্য, যোগাযোগের ধরন এবং সংশ্লিষ্টদের আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মতিঝিলের আইইডি থেকে আতঙ্কের শুরু : সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতায় রাজধানীর মতিঝিলের ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জেনারেটর রুমের পাশে একটি পরিত্যক্ত ছাতার ভেতর কার্যকর আইইডি পাওয়া যায়। পরে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করে। জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার নিচে কার্যকর বিস্ফোরক পাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কে এটি সেখানে রেখেছিল এবং উদ্দেশ্য কী ছিল? এর কয়েক দিন পর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে পরিত্যক্ত ব্যাগ ও বস্তা ঘিরে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরীক্ষা করে সেগুলোতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। একটিতে ছিল পান-জর্দার কৌটা ও পান, অন্যটিতে সাধারণ ময়লা-আবর্জনা। অর্থাৎ সব আশঙ্কা বাস্তব বোমায় পরিণত হয়নি। কিন্তু আতঙ্ক ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছে নগরজুড়ে। এখানেই তদন্তের আরেকটি প্রশ্ন, একটি প্রকৃত আইইডি উদ্ধারের পরপরই বিভিন্ন স্থানে বারবার সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যাওয়ার ঘটনা কি নিছক কাকতালীয়? নাকি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে জনমনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে? এর উত্তর এখনো মেলেনি। তাই প্রকৃত বিস্ফোরক এবং ‘ফলস অ্যালার্ম’ দুই ধরনের ঘটনাকেই আলাদা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেএমবির লিফলেট, নতুন করে আলোচনায় পুরনো নাম : সাভার-আশুলিয়ায় বিস্ফোরক উদ্ধারের সঙ্গে জেএমবির লিফলেট পাওয়ার তথ্য তদন্তকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। তবে কোনো স্থানে জেএমবির লিফলেট পাওয়া গেলেই এর সঙ্গে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তদন্তকারীদের কাছে তাই লিফলেটের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এর উৎস। কে লিফলেট সেখানে নিয়ে গেছে? কার কাছ থেকে পেয়েছে? লিফলেটের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের কোনো যোগসূত্র আছে কি না? একই ধরনের লিফলেট অন্য কোথাও পাওয়া গেছে কি না, এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। কারণ একটি লিফলেট যে কেউ রেখে যেতে পারে। কিন্তু বিস্ফোরক তৈরি, সংগ্রহ, মজুদ ও পরিবহনের জন্য প্রয়োজন হয় সংগঠিত যোগাযোগ ও সক্ষমতা। সেই নেটওয়ার্ক শনাক্ত করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।
‘আর ১’ সংকেত, নাকি কাকতাল? উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও রিমোট কন্ট্রোলে ‘আর ১’ লেখা থাকার তথ্য নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। এটি কোনো সাংগঠনিক সংকেত কি না, কোনো ব্যক্তি বা সেলের পরিচিতি কি না, এমন নানা সম্ভাবনা সামনে আসছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি ব্যাখ্যাকে সত্য ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। একটি চিহ্নের প্রকৃত অর্থ জানতে হলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত, ব্যক্তিদের যোগাযোগ, নথিপত্র, মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে। গোয়েন্দাদের কাছে তাই ‘ আর ১’ লেখাটির গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, এই একই সংকেত আর কোথাও ব্যবহার হয়েছে কি না।
পুরনো জঙ্গিরা কি ফিরছে নতুন ছকে? বাংলাদেশে গত এক দশকে জঙ্গিবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানে অনেক পুরনো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের বহু নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। সাংগঠনিক কাঠামোও দুর্বল হয়েছে। তবে উগ্রবাদী মতাদর্শ পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বর্তমান সময়ে বড় সংগঠনের প্রকাশ্য তৎপরতার বদলে ছোট ছোট সেল, বিচ্ছিন্ন সদস্য, গোপন যোগাযোগ ও অনলাইনভিত্তিক নেটওয়ার্ককে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তাই সাভার-আশুলিয়ার ঘটনাগুলো তদন্ত করতে গিয়ে গোয়েন্দাদের সামনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, পুরনো কোনো নেটওয়ার্ক কি নতুন নামে, নতুন সদস্য নিয়ে কিংবা ছোট ছোট সেলে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে? এখন পর্যন্ত এর নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু একই এলাকায় অল্প সময়ে এতগুলো বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় সম্ভাবনাটি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তাও আলোচনায় : এদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় আল-কায়েদার আঞ্চলিক শাখা আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট, একিউআইএসের কার্যক্রম নিয়ে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ দলের ৩৮তম প্রতিবেদনে ছোট ও ছড়িয়ে থাকা সেল, লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সেল গঠনের চেষ্টার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। তবে জাতিসংঘের ওই সতর্কবার্তাকে সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধারের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার মতো প্রমাণ এখনো নেই। দুই বিষয়কে এক করে দেখাও হবে তদন্তের আগে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া। তবে সতর্কবার্তাটি একটি বিষয় স্পষ্ট করে, উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের চরিত্র বদলাচ্ছে। বড় সাংগঠনিক কাঠামোর বদলে ছোট সেল, সীমিত যোগাযোগ এবং বিচ্ছিন্ন কর্মকান্ডই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
আতঙ্ক নয়, দরকার দ্রুত সূত্রের সন্ধান : সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো, কোথাও প্রকৃত বিস্ফোরক উদ্ধার হচ্ছে, আবার কোথাও সন্দেহজনক বস্তু ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। ফলে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও জনমনের নিরাপত্তাবোধও প্রভাবিত হচ্ছে। তদন্তকারীদের সামনে এখন কয়েকটি প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিস্ফোরকের উৎস কোথায়, কারা এগুলো তৈরি করছে, অর্থের জোগানদাতা কারা, কারা পরিবহন করছে এবং এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো কেন্দ্রীয় যোগাযোগ রয়েছে কি না।
একই সঙ্গে প্রকৃত বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাগুলোর ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ব্যবহৃত উপকরণের মিল, উদ্ধার হওয়া আলামত এবং আটক ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি। কারণ বোমা পাওয়া যাওয়াই শেষ কথা নয়। একটি বোমা কোথায় তৈরি হয়েছে, কে তৈরি করেছে, কার কাছে গেছে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছানোর কথা ছিল, এই পুরো পথটি শনাক্ত করতে পারলেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল চিত্র।
সাভার-আশুলিয়ায় ধারাবাহিক বিস্ফোরক উদ্ধারের পর সেই পথেরই সন্ধানে এখন গোয়েন্দারা। জেএমবির লিফলেট, ‘ আর ১’ চিহ্ন, আটক ব্যক্তিদের যোগাযোগ কিংবা উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের ধরন, প্রতিটি আলামতই হতে পারে সেই জট খুলে দেওয়ার সূত্র। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ‘পুরনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক ফের সক্রিয়’ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেমন ঠিক হবে না, তেমনি ধারাবাহিক ঘটনাগুলোকে নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেও দেখার সুযোগ নেই। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো আতঙ্কের উৎস নয়, বিস্ফোরকের উৎস খুঁজে বের করা। আর সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে, সাম্প্রতিক বোমাতঙ্ক কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা, নাকি এর আড়ালে সত্যিই নতুন ছকে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে কোনো পুরনো নেটওয়ার্ক।