
আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটি তাই গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি সামনে আনেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার লক্ষ্যে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান এবং বঙ্গবন্ধুর গ্রেপ্তারের পর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন। তাঁর শাসনামল, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ড- সবকিছুই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
দীর্ঘদিন ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়ে আসছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দিনটি পালনের ধরনেও বড় পরিবর্তন আসে। ওই বছর অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ আগস্টের সাধারণ ছুটি বাতিল করে। এরপর থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আগের মতো শোক দিবসের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে না।
ফলে ২০২৪ সালের পর ১৫ আগস্ট একদিকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব ও ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ড স্মরণের দিন হিসেবে রয়েছে, অন্যদিকে এটি বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইতিহাসের মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক বিতর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে উঠেছে।