বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের পরিচিত গ্ল্যামারাস ভাবমূর্তি ভেঙে তাকে ভিন্নভাবে পর্দায় উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন পরিচালক সুভাষ ঘাই। ১৯৯৯ সালের ‘তাল’ সিনেমায় মানসী চরিত্রে ঐশ্বরিয়াকে নেওয়ার সময়ই এ পরিকল্পনার কথা তাকে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন নির্মাতা। সিনেমাটির মুক্তির ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সুভাষ ঘাই।
‘তাল’-এ মানসী ছিল ছোট শহর থেকে উঠে আসা এক তরুণী, যার জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল নাচ ও সংগীত। প্রতিভা, আবেগ এবং নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে চরিত্রটির গল্প এগিয়েছে। সেই চরিত্রে ঐশ্বরিয়াকে বেছে নেওয়া তখনকার প্রেক্ষাপটে পরিচালকের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল।
কারণ, বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জয়ের পর ঐশ্বরিয়া তখন বলিউডে মূলত সৌন্দর্য ও গ্ল্যামারের প্রতীক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সুভাষ ঘাই চেয়েছিলেন, ‘তাল’-এ দর্শকের সামনে সেই পরিচিত তারকা-ভাবমূর্তি নয়, বরং মানসীর স্বাভাবিকতা ও সরলতাই ফুটে উঠুক। সে কারণেই ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি চরিত্রটির জন্য তার প্রচলিত ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।
সুভাষ ঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঐশ্বরিয়াকে তিনি বলেছিলেন, তার প্রচলিত ভাবমূর্তি ভেঙে চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে। এমনকি সিনেমার প্রথম এক ঘণ্টায় কোনো প্রসাধনী ব্যবহার না করার শর্তও দিয়েছিলেন তিনি। পরিচালকের এই সিদ্ধান্তে ঐশ্বরিয়া আপত্তি না করে সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি জানান এবং চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি নির্দেশনা মেনে চলবেন বলে জানান।
১৯৯৯ সালে মুক্তির পর ‘তাল’-এ ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে অভিনয় করেন অনিল কাপুর ও অক্ষয় খান্না। সিনেমাটির গল্প, সংগীত ও অভিনয় দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলে। বিশেষ করে মানসী চরিত্রে ঐশ্বরিয়ার অভিনয় প্রশংসিত হয়। এর মধ্য দিয়ে সৌন্দর্যনির্ভর পরিচয়ের বাইরে একজন অভিনেত্রী হিসেবেও তার সক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসে।
সুভাষ ঘাইয়ের এই সিদ্ধান্তকে ঐশ্বরিয়ার অভিনয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবেও দেখা হয়। ‘তাল’ তাকে শুধু তারকা হিসেবে নয়, চরিত্রনির্ভর অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়।
এদিকে ‘তাল’ মুক্তির ২৭ বছর পর সিনেমাটির সিক্যুয়েল ‘তাল ২’ নিয়েও কথা বলেছেন সুভাষ ঘাই। তিনি জানিয়েছেন, নতুন সিনেমাটির চিত্রনাট্যের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে সিক্যুয়েলেও তারকা পরিচয়ের চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নীতি বজায় রাখতে চান তিনি।
পরিচালকের মতে, প্রথম ‘তাল’-এ অভিনয়শিল্পীদের তারকা পরিচয়কে সামনে না রেখে চরিত্রের মাধ্যমে তাদের আরও উজ্জ্বল করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। ‘তাল ২’-এর ক্ষেত্রেও একই দর্শন অনুসরণ করতে চান সুভাষ ঘাই।