সাভারে আবারও বোমাসদৃশ বস্তু ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠ থেকে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম উদ্ধার করা হয়। ড্রামের ভেতরে কাপড়চোপড়ের সঙ্গে একটি প্রেশার কুকার পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে মাঠে পড়ে থাকা ড্রামটি দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে সেটির ভেতরে প্রেশার কুকার দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ স্থানীয়দের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিয়ে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রেশার কুকারটির ভেতরে বিস্ফোরক বা অন্য কোনো বিপজ্জনক বস্তু রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি পরীক্ষা করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন এবং ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেখানে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে দুষ্কৃতকারীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রেশার কুকারের ভেতরে কী রয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ড্রামটি কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে রেখে গেছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ৩১ জুলাই সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদি দোকানের বেঞ্চে রাখা ব্যাগ থেকে বোমাসদৃশ বস্তুসহ একটি প্রেশার কুকার উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
সেই ঘটনায় দোকানে আসা এক ব্যক্তির গতিবিধি নিয়ে সন্দেহের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তাকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয়েছিল।
সাভারে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই ধরনের বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া প্রেশার কুকারটি আদৌ বিস্ফোরক কি না, তা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।