‘নদী বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, প্রকৃতি বাঁচাও’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সংগঠন নোঙর বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির জেলা শাখার কার্যক্রম নতুন করে শুরু হয়েছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জামে মসজিদ রোড এলাকার গ্র্যান্ড এ মালেক চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বিল্লাল।
সভায় শিক্ষক, সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী, ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী, আইনজীবী ও সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
আলোচনায় বক্তারা নোঙরের আগের কমিটির কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, আগের কমিটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও অরাজনৈতিক নীতির বাইরে গিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়েছিল। নতুন কমিটি অরাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখে পরিবেশ ও নদী রক্ষায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বক্তারা তিতাস ও মেঘনা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে যথাযথ খননের দাবি জানান। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের টাউন খাল পুনঃখনন, খালের নাব্যতা বাধাগ্রস্ত করা স্থাপনা অপসারণ এবং বিভিন্ন এলাকায় ভরাট হয়ে যাওয়া পুকুর ও জলাশয় উদ্ধারের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া আবর্জনায় ভরে যাওয়া পুকুর-জলাশয় পরিষ্কার করা এবং নদী-খাল ও জলাশয়ে পলিথিনসহ বর্জ্য না ফেলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক মো. মনির হোসেনকে সভাপতি, সাংবাদিক মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বিল্লালকে সাধারণ সম্পাদক, মোজাম্মেল চৌধুরীকে সহসাধারণ সম্পাদক, ব্যবসায়ী মো. কামাল উদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক, সাংবাদিক আশেক মান্নান হিমেলকে কোষাধ্যক্ষ এবং সাংবাদিক মো. আবুল হাসনাত অপুকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৫৫ সদস্যের কার্যকরী কমিটি ও ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ মিলিয়ে মোট ৭০ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নোঙর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সুমন শামস মোবাইল বার্তায় নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রাণের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নদী, খাল-বিল ও জলাশয় গভীরভাবে জড়িত। তিতাস, মেঘনা ও অন্যান্য জলাশয় রক্ষা করা না গেলে জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে শুধু প্রতিবাদ নয়, দখলদারদের তালিকা করে প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নদী রক্ষার সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
সুমন শামস বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নদী পুনরুদ্ধারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি নদী, খাল-বিল ও প্রকৃতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে তিনি নোঙর বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন কমিটির নবযাত্রায় শুভেচ্ছা জানান। তিতাস নদীসহ জেলার নদ-নদী ও জলাশয় রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।