রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট। জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক নাহিদ ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণ, জোটের রাজনৈতিক সমঝোতা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদসহ শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বৈঠকে অংশ নেন।
কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন। প্রতিরোধযুদ্ধের পর ভারতে পুনর্গঠিত মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সের অধীনে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
স্বাধীনতার পর অলি আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে অবসর নেন। পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন।
জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করলে অলি আহমেদ সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার দায়িত্ব পালনকালে যমুনা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর সাবেক রাষ্ট্রপতি এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন অলি আহমেদ। পরে দুজনের মধ্যে রাজনৈতিক মতবিরোধ দেখা দেয়।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেয়। এবার সেই জোটই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে।