জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবার নেতৃত্ব নির্বাচনে মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে সিন্ডিকেট, তদবির ও বিতর্কিতদের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অতীতের বিভিন্ন ইউনিট কমিটি নিয়ে বিতর্ক, বঞ্চনার অভিযোগ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার নেতৃত্ব বাছাই করা হচ্ছে।
সভাপতি পদে বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সহ-সভাপতি এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে মমিনুল ইসলাম জিসান, সালেহ মো. আদনান, ফারুক হোসেন, শরিফ প্রধান শুভ ও তরিকুল ইসলাম তারিকসহ একাধিক নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন।
এ ছাড়া সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে উঠে আসা এই নেতা বর্তমানে এফসিপিএস অধ্যয়নরত। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয় এবং তিনি কারাবরণ করেন। অনুসারীদের দাবি, মেধা ও ত্যাগের সমন্বয়ের কারণে তিনি আলোচনায় রয়েছেন।
আলোচনায় রয়েছেন আরেক ত্যাগী নেতা কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেতও। ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। রিমান্ডে নির্যাতনের পাশাপাশি দুটি মামলায় সাজাও ভোগ করেছেন তিনি। ২০১৫ সালের অবরোধ কর্মসূচির সময় একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং দীর্ঘ ১০ মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, ছাত্রদলের পাশাপাশি যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রটির দাবি।
উচ্চপর্যায়ের সূত্রের ভাষ্য, এই পুনর্গঠন শুধু ছাত্রদলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনকেও ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রাখা কিন্তু বিভিন্ন কারণে পদবঞ্চিত নেতাদের মূল্যায়নের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব দেশ ও দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণদের মধ্য থেকেই আসা উচিত। ছাত্র অঙ্গন ও রাজপথে যারা কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারবেন, তারাই নেতৃত্বে আসবেন—এমন প্রত্যাশা তার।
রাজনীতি বিশ্লেষক প্রফেসর গোলাম হাফিজ বলেন, ছাত্ররাজনীতির নেতৃত্ব প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা উচিত। লেজুড়বৃত্তির পরিবর্তে যারা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখেন, তাদেরই মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্রদলের রাজনীতির গুণগত মান আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।