দেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ১৭ সদস্যের ‘জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নবগঠিত কমিটি নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে কাজ করবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। প্রতিমন্ত্রীকে সহ-সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (নিরাপত্তা)কে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই কমিটি পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য।
কমিটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও কৌশলগত সুপারিশ প্রদান করবে। পাশাপাশি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণে নিরাপত্তা অবকাঠামো নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) মানদণ্ড অনুসরণ, বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংযোজন এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনার দায়িত্বও পালন করবে।
কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও উপকমিটি গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। কমিটির সভাপতি বছরে অন্তত দুইবার সভা আহ্বান করবেন।
জানা গেছে, দেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির প্রথম সভা আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেবিচক সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত হবে, যা বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের প্রতি আস্থা আরও বাড়াবে।