দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপি চুক্তি আজ

সুমন হাওলাদার

জাতীয়

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) চূড়ান্ত পর্যয়ে রয়েছে। আজ মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ে এ

2026-08-04T11:35:25+00:00
2026-08-04T12:12:29+00:00
  বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬,
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
৪১১ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপি চুক্তি আজ
সুমন হাওলাদার
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম  আপডেট: ০৪.০৮.২০২৬ ১২:১২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) চূড়ান্ত পর্যয়ে রয়েছে। আজ মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের এক বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেছেন। তারা সিইপিএ নিয়ে চূড়ান্ত দফার আলোচনা করেছেন। চুক্তি নিয়ে আজ শেষ আলোচনা করবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে টেলিফোনে সিইপিএ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান বাণিজ্য, শিল্প ও সম্পদমন্ত্রী কিম জং-ক্বান। দুই দেশের মধ্যে এ আলোচনাও ইতিবাচক ছিল। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিইপিএ চুক্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় এমন সব পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারসহ বেশকিছু সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে চার বিষয়ে চুক্তির জন্য একমত হয়েছে দুই দেশ। বাকি আরও আট বিষয়ে শেষ মুহূর্তের আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, পাটপণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও এ সুবিধা বহাল রাখা, কোনো কোনো পণ্য রুলস অব অরিজিনের আওতায় রাখা হবে, আইটি, প্রকৌশল, আর্থিক সেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য সেবা খাতে বাজারে প্রবেশের সুযোগ। দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু প্রযুক্তিগত সহায়তা, বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানো, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা, পণ্য দ্রুত ছাড় এবং ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপারটি) পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট সুরক্ষা, চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো বিরোধ হলে তা কীভাবে সমাধান করা হবেÑ এসব বিষয় প্রধান্য পাচ্ছে। এ ছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্প উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো সহযোগিতার বিষয়গুলোও রয়েছে। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এখনো তুলনামূলক ছোট হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধারাবাহিক বেড়েছে। দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় এক দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন), হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও সিরামিক পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে লোহা ও ইস্পাত, যন্ত্রপাতি ও শিল্প মেশিনারি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য আমদানি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির পর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সিইপিএ বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিতি হবে। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখা, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু হয় ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে। বর্তমান সরকার বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আরো ছয়টি দেশের সঙ্গে এফটিএ হবে।



Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: