টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার। মাছ, সবজির দাম বাড়ছে হু হু করে। বাজারে মাছ কিংবা সবজি কিনতে নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের। ঠিক কবে সবকিছু নাগালের মধ্যে আসবে তা কারও জানা নেই। রাজধানীর জিগাতলা কাচাবাজার, মোহাম্মদপুর টাউনহল মার্কেট, সাদেরক খান পাইকারি ও খুচরা বাজারে গিয়ে এসব চিত্র দেখা গেছে।
জিগাতলা কাচাবাজারের খুচরা বিক্রেতা জসীম উদ্দিন বলেন, কম দামের মধ্যে শুধু আলু আর পেঁপে রয়েছে। এছাড়ার সবজি আর কম দামে নেই। বাজারে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে মান ভেদে দেশি ও হাইব্রিড ৭০ থেকে ৯০ টাকা। পটোল প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। কাকরোল প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। গাজর প্রতি কেজি ১২০ টাকা, ঝিঙ্গা ৭০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৭০ টাকা। করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা এবং চিচিঙা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কচুরলতি প্রতি কেজি ১০০ টাকা। মুলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা।
ওই বাজারে আসা ক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, কি কিনব? দীর্ঘ সময় বাজারে ঘুরতেছি। দাম শুনে হিসাব মেলাতে পারছি না। দিন দিন যেন মনে হেচ্ছ সবকিছুরই দাম বাড়ছে কেবল মানুষেরই দাম কমছে! কোনো কারণ ছাড়া যেভাবে সবজির দাম বাড়ছে সেটা কখনই কাম্য নয়।
সাদেরক খান মার্কেটের পাইকারি ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিভিন্ন কারণে বাজারে সবজির দামে প্রভাব পড়েছে। এর অন্যতম কারণ বন্যা ও বৃষ্টি। বাজারেই সবজির সরবরাহ কম। যতটুকু পাওয়া যায় এর একটা অংশ পঁচে যায় বা পোকা খায়। সেগুলো বাদ দিলে সবজির দাম বেড়ে যায় অনেক। সিজন না হওয়ার কারণে অন্যান্য বারের তুলনায় এবার দামটা অনেকটাই বেশি।
জিগাতলা কাচাবাজারের খুচরা বিক্রেতা জসীম উদ্দিন বলেন, পাইকারি বাজারেই সবজির দাম চড়া। সেখান থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। একই দৃশ্য দেখা গেছে নিউমার্কেট কাচাবাজারের। সেখানেও সবকিছু প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে। ওই মার্কেটে লাল শাক প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে। লাউ শাক, পুইশাক, ডাটা শাক প্রতি আঁটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিম-মুরগির বাজারে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় আরও কিছুটা কমেছে ফার্মের ডিমের দাম। গত সপ্তাহে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা ডজন দরে ডিম বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। আর একমাস আগে এ ডিমের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। অন্যদিকে, প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৬০ থেকে ১৬০ টাকা ও সোনালি জাতের মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কাচকি মাছ ৮০০ টাকা প্রতি কেজি, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা প্রতি কেজি। রুই মাছ আকার ভেদে ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা প্রতি কেজি, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা প্রতি কেজি, পাবদা মাছ আকার ভেদে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা প্রতি কেজি।