হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে সংঘর্ষের সময় চারটি আইফোন, একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই বিকেলে কোর্ট মসজিদ এলাকায় এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদীর আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেন ইমনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪, শিমুল হাসানের আইফোন-১৫, মাহমুদুল হাসান গাজীর স্যামসাং এস-২২ এবং রক্সি ইসলামের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, নুর আলম চৌধুরীসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা।
অন্যদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে এনসিপিও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, পদযাত্রা ও পথসভা শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন এবং একজন কর্মী একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। এ ঘটনায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়িও ভাঙচুরের শিকার হয় বলে দাবি এনসিপির।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে এবং অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলা ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।