ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ঢুকে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত মো. আলাউদ্দীন (৫৬) চিলারং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা অসুস্থ বড় মেয়েকে চিকিৎসার জন্য দিনাজপুরে নিয়ে যান। একই সময় তার মা-ও কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ির বাইরে ছিলেন। এ সুযোগে দুপুর দেড়টার দিকে ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন তাদের বাড়িতে এসে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি চান।
কিশোরী ফটোকপি দিলে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার একপর্যায়ে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি ঘরের ভেতরে ঢুকে কিশোরীর শরীরে স্পর্শ করেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আত্মরক্ষার জন্য কিশোরী খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে। পরে সুযোগ বুঝে ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে দিনাজপুর থেকে ফিরে কিশোরীর বাবা মেয়ের গলায় আঁচড়ের দাগ ও শারীরিক অসুস্থতা দেখতে পেয়ে তাকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো হুমকি দেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী জানন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ আসামি আলাউদ্দীনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।