২০২৬ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড ও ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বিধির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। নিয়মপ্রণেতা সংস্থা আইএফএবি এই বহিষ্কারকে ভুল বললেও, ফিফা ভিএআর ইন্টারভেনশনকে সমর্থন করে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কে ভিএআরের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে ফিফা। যদিও ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি (IFAB) ঘটনাটির ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, ফিফা বলছে ম্যাচ কর্মকর্তারা নিয়মের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত ম্যাচে। সেই ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো। ঘটনার আগে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, একটি ঘটনায় ভুলবশত আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি। পরে সেই ভুল সংশোধন করে প্রকৃত খেলোয়াড় এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়। যেহেতু তিনি আগে থেকেই একটি হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন, তাই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ডে রূপ নেয়।
আইএফএবির মতে, ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড় শনাক্ত করার নিয়ম কেবল প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করার জন্য প্রযোজ্য। ফাউল হয়েছে কি না বা অপরাধের ধরন পরিবর্তনের জন্য এই বিধান ব্যবহার করা যায় না। এ ব্যাখ্যার পরই ভিএআরের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
তবে ফিফা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তে কোনো অসঙ্গতি ছিল না। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস এবং আর্জেন্টিনার টিওয়াইসি স্পোর্টস-এর প্রতিবেদনের বরাতে সংস্থাটি জানায়, পুরো টুর্নামেন্টে একই ধরনের পরিস্থিতিতে একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচে মিগেল আলমিরনের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিফার ভাষ্য, প্রতিপক্ষের অভিনয় বা ‘সিমুলেশন’-এর কারণে নির্দোষ কোনো খেলোয়াড়ের শাস্তি পাওয়া উচিত নয়। এমন ভুল সিদ্ধান্তের ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, লাল কার্ড কিংবা ভবিষ্যৎ নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুতর পরিণতি এড়াতেই ভিএআরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সংস্থাটি আরও জানায়, এই ঘটনায় রেফারি বা ভিএআর দলের কোনো ভুল ছিল না। বরং সিদ্ধান্তটি মাঠে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে বলেই তারা মনে করে।
ফিফা জানিয়েছে, আইএফএবির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে এবং ভবিষ্যতে ভিএআর প্রটোকল পর্যালোচনার সময় ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বিধানের ভাষা আরও স্পষ্ট করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাদের মতে, চলতি বিশ্বকাপেই এমন দুটি ঘটনায় ভিএআর ভুলভাবে দেওয়া হলুদ কার্ড সংশোধন করেছে, যা খেলোয়াড়দের অন্যায্য শাস্তি থেকে রক্ষা করেছে।
এ ঘটনার পর ভিএআরের ক্ষমতা, প্রয়োগ এবং ফুটবলের আইন ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক এড়াতে নিয়ম আরও পরিষ্কার করার দিকেই নজর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।