রাজধানীর মিরপুরে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যা মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সংস্থাটির দাবি, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার শুটার ভাড়া করা হয়েছিল। তবে হামলার সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী উসুফ। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।
ডিবি জানায়, গত শুক্রবার রাতে মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ইউসুফ নিহত হন এবং যুবদল কর্মী মনির হোসেন (৩২) ও সবজি বিক্রেতা সালাম সরদার (৪৫) আহত হন। এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই মাসুদ রানা বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— চঞ্চল (৩৪), জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পালানোর সময় স্থানীয়রা অস্ত্রসহ চঞ্চলকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। পরে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবির মিরপুর বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে নাহিদ ও শাফিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির দাবি, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। স্থানীয় ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা ও একটি টিনশেড বাড়ির দখলকে কেন্দ্র করে এ বিরোধ তৈরি হয় বলে জানায় সংস্থাটি।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে শুটার আনা হয়। এর আগে গত ২৯ জুন হত্যাচেষ্টার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অস্ত্রের ত্রুটির কারণে তা সফল হয়নি। পরে ২২ জুলাই শুটাররা ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান নেয়।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা বাবুর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিল। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা বলে জানায়। পরে তল্লাশির চেষ্টা করা হলে একজন অস্ত্র বের করে গুলি চালায়। ওই সময় গুলিতে ইউসুফ নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে দেখা হবে না। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে হাফিজুর রহমানের নির্দেশে কাজ করার কথা জানিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অস্ত্রের বিষয়ে তিনি জানান, একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অস্ত্রগুলোর উৎস শনাক্তে তদন্ত চলছে।
ডিবির দাবি, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে। এই পরিকল্পনার মূল ব্যক্তি হিসেবে হাফিজুর রহমানকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। চুক্তির কিছু অর্থ অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ঘটনায় কাফরুল থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।