গ্রেপ্তারের দাবি বিরোধী পক্ষের, অভিযোগ-পর্যালোচনায় সরকার

আজহারুল হক ফরাজী

জাতীয়

ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ প্রায় ৩৯ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের দুই দিন পর গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ছাড়লেন বাংলাদেশের

2026-07-27T12:01:48+00:00
2026-07-27T12:41:11+00:00
  সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
বঙ্গভবন ছাড়লেন সাহাবুদ্দিন
গ্রেপ্তারের দাবি বিরোধী পক্ষের, অভিযোগ-পর্যালোচনায় সরকার
আজহারুল হক ফরাজী
সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:০১ পিএম  আপডেট: ২৭.০৭.২০২৬ ১২:৪১ পিএম
সংগৃহীত ছবি
ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ প্রায় ৩৯ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের দুই দিন পর গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ছাড়লেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনি সপরিবারে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে ওঠেন। তবে দায়িত্ব ছাড়ার পরই তাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। 

জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের সংগঠন এনসিপি, জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন তার গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও অভিযোগ জমা পড়েছে। 

একই সময়ে সরকার বলছে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধাও পাবেন।

গত শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান মো. সাহাবুদ্দিন। পরে স্পিকার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

পদত্যাগের পর গতকাল বাংলাদেশ আজাদ পার্টি ও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের নামও রয়েছে। 

রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তাদের ভূমিকার তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে সংগঠনটি কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো এখনও পর্যালোচনা করা হয়নি।

এদিকে চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালে মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জনস্বার্থ বিবেচনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তিনি বলেন, সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অবিচার করতে চায় না; তদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়াতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে রোববার (২৬ জুলাই)  দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বঙ্গভবন ত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে তার গাড়িবহর বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে বিকেল ২টা ৫৮ মিনিটে গুলশানের ১২৩ নম্বর রোডে তার ব্যক্তিগত বাসভবনে পৌঁছায়। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেও তিনি ওই ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

সকাল থেকেই বাসভবনের সামনে পুলিশ, এপিবিএন, সেনাবাহিনী ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। আগের দুই দিন ধরে বাড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ চলে। বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পর থেকেই তার ব্যক্তিগত মালামাল সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। 

গত শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজেও অংশ নেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি। গতকাল তার বিদায়ের সময় বঙ্গভবনের সামনে গণমাধ্যমকর্মী ও উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৮টি গাড়ির বহরের সঙ্গে তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। দায়িত্ব গ্রহণের ১৬ মাসের মাথায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর তিনি এক জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হন। অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়েও তাকে বিভিন্ন আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও শেষ পর্যন্ত মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই তিনি পদত্যাগ করেন।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী মো. সাহাবুদ্দিন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সংবিধান অনুযায়ী তিনি দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) ভোগ করেছেন। দায়িত্ব পালনের সময়কার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী বিবেচিত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দল বা ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা সমালোচনা করতে পারেন, সেটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সরকার আমলে নেওয়ার মতো নতুন কোনো বিষয় এখন পর্যন্ত দেখেনি।

আইন অনুযায়ী আগামী ছয় মাস মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রীয় প্রটোকল, এসএসএফ ও প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) নিরাপত্তা পাবেন। 

এছাড়া রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬ অনুযায়ী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা, একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট, চিকিৎসাসুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট, সরকারি যানবাহন ব্যবহার এবং অন্যান্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।


  বিষয়:   রাষ্ট্রপতি  মো. সাহাবুদ্দিন  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  বাংলাদেশ 


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: