নেত্রকোনার মদনে আধিপত্য বিস্তারকে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চলছিলো প্রস্তুতি। অবশেষে রোববার (২৬ জুলাই) লাশ দাফন শেষে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষে নারীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বাড়ি ঘর ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নে আলমশ্রী গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত এমদাদুল (৩৭), সাইফুল ইসলাম (৩০), সজীব মিয়া (২৫), প্রান্ত (৩০) আবুল কাশেম (৩৮), মুনায়েম(৩০), রামিন (১৩), সিফাত(১৫) রোশনারা আক্তার ( ৩৫), রাকিবা আক্তার (৪০), নুরজাহান আক্তারকে (৮০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আহতরা মদন ও পাশের উপজেলার তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে ফারুক মেম্বারের খালাতো ভাই জামাল অটোরিক্সা নিয়ে আলমশ্রী বাজারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় কামরুল ও বেবুল মেম্বারের লোকজন জামাল মিয়ার অটোরিক্সা গতিরোধ করে আটকিয়ে দেয়। তখন ফারুক মেম্বারের মামাতো ভাই হৃদয় এগিয়ে গেলে তাকে মারপিট করে। এরপর থেকেই ফারুক মেম্বারের লোকজন আলমশ্রী বাজারে যাওয়া বন্ধ ছিল। তবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে এলাকার গন্যমাণ্য ব্যাক্তিরা ব্যর্থ হয়। এ দিকে গত ২৪ জুলাই শুক্রবার ফারুক মেম্বার এক ভাতিজা ঢাকা বিদুৎপৃষ্টে মারা যান। রোববার সকালে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করে বাড়ি দিকে আসার পথে কামরুল ও বেবুল মেম্বারের লোকজন হামলা চালায় এ নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য বেবুল তার মোবাইল ফোনে জানান, ফারুক হচ্ছে বর্তমান মেম্বার। তার কথামতো না চললে লোকজনকে মারপিট করে। সে চায় এই এলাকায় সেই শুধু মেম্বার থাকবে। কোন সময় যেন আর কেউ প্রার্থী না হয়। আজকে মূলত তারা লাশ দাফন করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। পরে আমাদের পক্ষে সাত্তার নামের একজন হাওরে যাওয়ার সময় তাকে রাস্তা আটকিয়ে দেয় এ নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
ফারুক মেম্বার জানান, আজকে যে সংঘর্ষ হয়েছে এটি মূলত ইস্যু। আমাদের বাড়ির সামনে একটি আশারবান( হাওর) আছে৷ এখানে বছরে কোটি টাকার মাছ কেনা বেচা হয়। আমার লোকজনকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারলেই তারা মূলত এটি দখলে নিয়ে মোটা অংকের টাকা আয় করতে পারবে। এটাই হচ্ছে মূল কথা।
মদন থানার ওসি সালাহউদ্দিন করিম জানান, আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আলমশ্রী গ্রামে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় এক পক্ষ অন্য পক্ষের বাড়িঘর ভাংচুর করে৷ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোনো পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেনি।