পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বদরপুর গ্রামে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যেই একটি বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাণ বাঁচাতে দরজা খুলে বাইরে ঝাঁপ দিয়ে রক্ষা পান একই পরিবারের চার সদস্য। তবে তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ে গড়া ঘর, আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সবকিছু আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। বর্তমানে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে স্বজনের বাড়িতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে পরিবারটি।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার বদরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল এবং ৪ লাখ টাকা মূল্যের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত যুবক মুরাদ জানান, সকালে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হতে দেখে তার মা সুমি বেগম চাচা নাসিরকে বিষয়টি জানান। নাসির এসে সিলিন্ডারটি পরীক্ষা করছিলেন। এরই মধ্যে লিক হওয়া গ্যাসে পুরো ঘর ভরে যায়। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই সিলিন্ডার চালু করে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
এসময় ঘরে থাকা মুরাদ, তার মা সুমি, ভাগ্নি ওজিহা এবং চাচা নাসির প্রাণভয়ে দরজা খুলে বাইরে ঝাঁপ দেন। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আগুন পুরো ঘর গ্রাস করে। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় জীবনের সব সম্বল।
স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে কাউখালী ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। তবে বাড়ির সঙ্গে সংযোগকারী প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা যান চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সাজিবুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে হাতে ও ভ্যানগাড়িতে করে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই পুরো বাড়িটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।’
মুরাদ জানান, কয়েক মাস আগেই তার বাবা ফারুক হোসেন মারা গেছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়েছে। এখন নিজের কোনো বসতঘর না থাকায় চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু সেখানে একসঙ্গে এতজনের বসবাস অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। পরিবারটির দাবি, তাদের পরনের কাপড় ছাড়া প্রায় সবকিছুই আগুনে পুড়ে গেছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা কোনো সদস্য আমাকে জানাননি। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। খুব দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম ও চলাচলের অনুপযোগী সড়কের কারণে সময়মতো ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। তারা দ্রুত ওই সড়ক সংস্কারের দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
সব হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি সরকারের কাছে জরুরি পুনর্বাসন, একটি নতুন বসতঘর নির্মাণে সহায়তা এবং আর্থিক অনুদানের আবেদন জানিয়েছে। তাদের প্রশ্ন—প্রাণে বাঁচলেও মাথার ওপর ছাদ ছাড়া কীভাবে শুরু হবে নতুন জীবন?