চট্টগ্রাম মহানগরের সদরঘাট থানায় এলাকায় ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিত ওই ব্যক্তি হলেন- মো. আকতার সর্দার (২৪)। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত মো. আকতার সর্দার সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার কুকড়াপর্শি এলাকার কাদের সর্দার বাড়ির মো. সাত্তার সর্দারের ছেলে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি নগরের পূর্ব মাদারবাড়ি সাহেবপাড়া এলাকার ইউনুছ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা একটি জুতার কারখানায় এবং মা তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। বাবা-মা প্রতিদিনের মতো কাজে চলে গেলে পূর্ব মাদারবাড়ীর সাহেবপাড়ার নার্গিস কলোনির ভাড়া বাসায় একাই থাকত শিশুটি। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে অভিযুক্ত আকতার সর্দার প্রায়ই তাদের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং শিশুটিকে নানা রকম প্রলোভন দেখাতেন।
২০২২ সালের ২ জুলাই সকালে শিশুটির বাবা-মা কর্মস্থলে চলে যান। ওই দিন বিকেলের দিকে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত আকতার সর্দার ঘরে ঢোকে এবং শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এসময় ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ভয় ও আতঙ্কে শিশুটি কয়েকদিন বিষয়টি কাউকে জানায়নি।
তবে ঘটনার চার দিন পর ৬ জুলাই বিকেলে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা কারণ জানতে চাইলে মাকে ঘটনার কথা জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে পরীক্ষা করে শারীরিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান এবং স্থানীয়দের বিষয়টি জানানোর পর শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা মনির হোসেন বাদী হয়ে সদরঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন (অভিযোগ গঠন) করে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু করেন আদালত।
এদিকে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রবিবার বিচারক এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে বলে জানালেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ।
তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। পরে তাকে সাজা পরোয়ানা মূলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।