দিল্লির যন্তর মন্তর প্রতিবাদস্থল ও আশপাশের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সময়সীমা আবারও বাড়িয়েছে ভারত সরকার। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জারি করা নতুন নির্দেশনায় মধ্যরাত পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। টেলিকম অপারেটরদের যন্তর মন্তরের ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। গত পাঁচ দিনে এটি ষষ্ঠবারের মতো এমন নির্দেশ জারি হলো।
এদিকে, যন্তর মন্তর এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে করা এক আবেদনের জরুরি শুনানি হবে বলে শুক্রবার জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
প্রথমবার ২০ জুলাই এ নির্দেশ জারি করা হয়। তখন এয়ারটেল, রিলায়েন্স জিও ও ভোডাফোন আইডিয়াসহ টেলিকম অপারেটরগুলোকে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।
এরপর ২২ জুলাই দ্বিতীয় নির্দেশে সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়।
বৃহস্পতিবার তৃতীয় নির্দেশে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়। পরে একই দিন চতুর্থ নির্দেশে এর মেয়াদ বাড়িয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয় বলে টেলিকম খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার সকালে সরকার প্রথমে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। পরে ষষ্ঠ নির্দেশে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে জনপথ মার্কেট, লে মেরিডিয়ান হোটেল, শাংগ্রি-লা হোটেল, ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টার, ইন্ডিয়ান উইমেন্স প্রেস কর্পসের কার্যালয়সহ কনট প্লেসসংলগ্ন কয়েকটি এলাকা।
বারবার মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় অনেক আন্দোলনকারী বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করছেন। তাঁদের কেউ কেউ Bitchat Mesh-এর মতো ব্লুটুথভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহার করছেন, যা ইন্টারনেট ছাড়াই কাছাকাছি থাকা ব্যবহারকারীদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের সুযোগ দেয়।
তবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকলেও আন্দোলনের কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। স্বেচ্ছাসেবকেরা মাঠপর্যায়ে খাবার, পানীয় জল ও ওষুধ সরবরাহ করছেন। তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যেও অনেকে হাতপাখা দিয়ে আন্দোলনকারীদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস