শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে ভারতের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে অবস্থান জানাতে আগামীকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় নিয়েছে সরকার।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন ভাঙার কয়েক ঘণ্টা পরই সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর দুই পক্ষের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা নিরসনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হাজারো তরুণ বিক্ষোভ শুরু করেন। সরকারবিরোধী এই আন্দোলনকে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সামনে যুবসমাজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তরুণদের এই আন্দোলনে কংগ্রেসসহ ভারতের বিভিন্ন বিরোধী দল সমর্থন জানিয়েছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলতি সপ্তাহে ভারতের সংসদে শুরু হওয়া বর্ষাকালীন অধিবেশনও কয়েক দফা মুলতবি হয়েছে।
গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে শুক্রবারের বৈঠকটি ছিল সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রথম বিস্তারিত আলোচনা। এতে সরকারের পক্ষে অংশ নেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। আর আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
বৈঠক শেষে সিজেপির নেতারা জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো প্রস্তাব তারা গ্রহণ করবেন না। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বিষয়ে (শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ) সরকার আমাদের কাছে আগামীকাল বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করছি, সরকার দ্রুত ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরিয়ে দেবে অথবা তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন। তাহলে এ সংকটের একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানান, সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে। আমরা তাদের বলেছি, আগামীকাল বিকেলে আবার বসব এবং দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করব।’
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের আরও দুটি দাবি হলো—বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং মে মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে যেসব শিক্ষার্থীর খবর প্রকাশিত হয়েছে, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
সূত্র: রয়টার্স