যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের অবস্থান, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত মূল বিরোধের সমাধান ছাড়া কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে তারা রাজি নয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই)। প্রতিবেদনে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি ও ইরাকি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি তেহরান সফর করেন। সফরকালে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দেন।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মতো মৌলিক বিরোধ নিষ্পত্তির কোনো রূপরেখা প্রস্তাবে না থাকায় তা গ্রহণে আগ্রহী নয় তেহরান। তাদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিই একমাত্র যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব হলেও মূল ইস্যু উপেক্ষা করে সাময়িক সমঝোতা গ্রহণযোগ্য নয়।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফরের অভিজ্ঞতা ইরানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। তবে তিনি দাবি করেন, মূল সমস্যা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক, আধিপত্যবাদী ও অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের নীতি’।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি রেলপথ, বিমানবন্দর, সেতু ও সমুদ্রবন্দরের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
ইরানের দুই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরান বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আরও হামলা চালায়, তাহলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলের তেল আবিবে হামলা জোরদার করার পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের সহায়তায় লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।