তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে প্রবল বাতাসের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে দাবানল। ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য।
দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ইউরোপীয় স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ইএফএফআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের অর্ধেক সময় শেষ না হতেই ইউরোপে দাবানলে পুড়ে যাওয়া এলাকার পরিমাণ গত দুই দশকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইতালির সিসিলি দ্বীপে কয়েক দিন ধরে ভয়াবহ দাবানল চলছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ছয় হাজার সদস্য, বনরক্ষী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা কাজ করছেন। ইতালি সরকার জানিয়েছে, আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়ে অসুস্থ হয়ে এক ফায়ার সার্ভিস সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লে পর্জ এলাকায় দাবানলের কারণে অনেক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জুলি লিওনার্দ জানান, বিকেলের দিকে আকাশজুড়ে বিশাল কালো ধোঁয়ার মেঘ দেখা যায়। বোর্দোর কাছাকাছি সমুদ্রতীরবর্তী পাইনবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার ১০ হাজারের বেশি পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার থেকে লে পর্জ এলাকার দাবানলে প্রায় ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো বাড়িঘর ধ্বংস হয়নি এবং হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী নিহত হন।
অন্যদিকে, স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণাঞ্চলে বড় ধরনের দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় বেশির ভাগ বাসিন্দাকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়েছে। তবে মাদ্রিদের উত্তরে গুয়াদালাহারা প্রদেশে আরেকটি বড় দাবানল নেভাতে শত শত ফায়ার সার্ভিস সদস্য কাজ করছেন। ওই আগুনে এরই মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।
সূত্র: এএফপি