রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাকে নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে দেশে ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরে বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিকেলে তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং সংবিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাদের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তার অপসারণের দাবি উঠলেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন। পরে বিএনপি সরকার গঠনের কয়েক মাস পর তিনি পদত্যাগ করলেন, যদিও তার মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর বাকি ছিল।
স্পিকার জানান, সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তার কাছে জমা দেন। পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, গুরুতর অসুস্থতার কারণে তার পক্ষে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।
রাষ্ট্রপতির অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে স্পিকার বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন রোগের কারণে শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা তৈরি হওয়ায় রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্পিকার আরও জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নথিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’
তিনি বলেন, স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথ নেওয়া ছিল। একইভাবে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন বলেও সাংবিধানিক বিধান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলা নানা গুঞ্জনের বিষয়ে স্পিকার বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের নানা ধরনের কথাবার্তা আমি দুপুরে এসেই শুনছি। দেখা গেল যে, এটি প্রকৃতপক্ষে তিনি শারীরিক অসমর্থতার কারণে পরিত্যাগ করেছেন। আমি তার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে কোনো ধরনের ধোঁয়াশার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই পদত্যাগের ফলে সব ধোঁয়াশা পরিষ্কার হলো। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বিরূপ মনোভাব কিংবা কনফিউশন যাতে এসব ব্যাপারে না ঘটে। আগেও রাষ্ট্রপতিরা বিভিন্ন কারণে পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি দেশের একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি পদত্যাগ করতেই পারেন এবং এই চেয়ার কখনো শূন্য থাকে না।