দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রী নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তাকে অন্য দুটি সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত চলমান থাকতেই এ বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) স্থানীয় সরকার বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনে মোহাম্মাদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে এবং তার স্ত্রী ফারজানা মুক্তাকে রংপুর সিটি করপোরেশনে পদায়নের নির্দেশ দেয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে এবং ফারজানা মুক্তাকে রংপুর সিটি করপোরেশনের শূন্যপদে বা সমপদে পদায়ন করা হয়েছে। নতুন কর্মস্থল থেকেই তারা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করবেন। আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ২৭ জুলাই থেকে তাদের 'স্ট্যান্ড রিলিজ' হিসেবে গণ্য করা হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাদের বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
অভিযোগে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে লিখিত আবেদন করেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা মেহেদী চৌধুরী।
দাফতরিক নথি অনুযায়ী, মোহাম্মাদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে ঘিরে প্রশাসনিক আলোচনা নতুন নয়। ২০১৭ সালে একটি অভিযোগের ঘটনায় তিনি সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি পান। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে পুনর্বহাল হন এবং পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরেও তাকে বরিশাল সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়েছিল। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রকৌশলী সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দেওয়ার পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তিনি আবার চসিকে ফিরে আসেন।
এদিকে চলতি বছরের ২৫ জুনের এক দাফতরিক স্মারকে জানা যায়, আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য এক বছরের ছুটির আবেদন করেছিলেন শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ওই আবেদন নিয়েও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।