ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি নারী ও তাঁর দুই ছেলে–মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী ও আরেক ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানী রিয়াদ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন তানিয়া তাহমিনা (৪৫), তাঁর মেজ ছেলে তাজবিক (১৯) এবং মেয়ে সাদাফ (১৫)। আহত হয়েছেন তানিয়ার স্বামী শফিকুল ইসলাম (৫৫) ও তাঁদের বড় ছেলে নাবিল (২৪)। শফিকুল ইসলাম সৌদি আরবে কর্মরত এবং তাঁর গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। পরিবারের সদস্যরা ঢাকার উত্তরায় বসবাস করতেন এবং সম্প্রতি তাঁরা সৌদি আরবে বেড়াতে যান।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে পরিবারের সবাই একসঙ্গে ওমরাহ পালন করতে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁদের বহনকারী গাড়িটি সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
নিহত তানিয়া তাহমিনার বাবার বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে। তাঁর বাবা প্রয়াত নাজিমুদ্দিন মোল্লা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
তানিয়ার ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ জানান, দুর্ঘটনাস্থল রিয়াদ থেকে দূরে হওয়ায় স্বজনদের কাছে খবর পৌঁছাতে বেশ সময় লাগে। তাঁদের এক আত্মীয় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় নেন। পরে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁরা দুর্ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হন।
তিনি আরও জানান, নিহত তাজবিক ফিনল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন এবং আর এক সপ্তাহ পরই তাঁর বিদেশযাত্রার ফ্লাইট ছিল। সেই যাত্রার আগে পরিবারের সবাই মিলে ওমরাহ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
মরদেহ দেশে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তাঁদের ভাষ্য, ওমরাহর উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে মৃত্যুবরণ করায় সৌদি আরবেই শুক্রবার জুমার পর জানাজা শেষে তাঁদের দাফন করা হবে।