সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠিও পাঠিয়েছে দলটি। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শুধুমাত্র দলীয় বহিষ্কারের ভিত্তিতে কোনো সংসদ সদস্যের সদস্যপদ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দলের একজন সংসদ সদস্য স্পিকারের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনে বহিষ্কারের চিঠি পৌঁছে দিয়েছেন। পরে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে চিঠির অনুলিপি সংবাদমাধ্যমে পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে দলীয় সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম।
সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে দলটির নেতাকর্মীরা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে নজরুল ইসলাম নিজেই ফেসবুক পোস্টে ওই নারীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দলীয় তদন্ত শেষে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত।
এদিকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলেই তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। তিনি বলেন, দলীয় বহিষ্কারের চিঠি পাওয়ার ভিত্তিতে ইসির সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে স্পিকার বা জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স এলে সংবিধান ও প্রচলিত আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তাই গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।