ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে থেকে আটক হওয়া দেশটির লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ‘আরশোলা’দের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন রাহুল গান্ধী। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, সারা রাত সেখানে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। এরপরই দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করে। কয়েক ঘণ্টা পর ছত্রসাল স্টেডিয়াম থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে মন্দির মার্গ থানায় রাখা হয়েছিল। পরে তাকেও মুক্তি দেওয়া হয়। রাতে সেখানে যান কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। পরে তিনিও মন্দির মার্গ থানা ত্যাগ করেন।
এদিকে, সোমবার পুলিশ ও সিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আটক আরও ৭০ জনকে মঙ্গলবার ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ নষ্টের অভিযোগে ছয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিক্ষোভের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে রাহুল গান্ধীর আচরণ নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। এটি ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে একটি কালো দিন।”
এদিকে গভীর রাতে জন্তর মন্তর চত্বরে পৌঁছান মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। তিনি সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নেন।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে জড়ো হন দলটির নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশে মিছিল শুরু হয়। এতে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও যোগ দেন। এরপর মোদির বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)।
বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে তাঁর আশ্বাসের পরও সারা রাত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস।
বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, ‘ককরোচ’ ইস্যুতে রাহুল গান্ধীর প্রকৃত উদ্বেগ নেই; এটি তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। সূত্রটির অভিযোগ, তিনি বারবার নিজের দাবিদাওয়া পরিবর্তন করছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে তিনি ভারতের গণতন্ত্রের সমালোচনা করে দাবি করেছিলেন, সংসদ, বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শাসকদল ও আরএসএসের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির নেতা সোমনাথ ভারতী বলেন, “রাহুল গোটা বিষয়টিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। তিনি আসলে বিজেপির চাপে রয়েছেন। ছাত্র-যুবদের সমর্থন করতে চাইলে তাঁর যন্তর মন্তরে যাওয়া উচিত।”