ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে কাতার। এ লক্ষ্যে দেশটি জাতিসংঘের মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ করেছে, ইরান আন্তর্জাতিক আইন, ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে।
কাতারের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই হরমুজ প্রণালির কাছে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাঙ্কার ‘আল রেকাইয়াত’-এ হামলা চালানো হয়। এছাড়া ১২ ও ১৭ জুলাই কাতারের মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
দোহার দাবি, ১২ জুলাইয়ের হামলায় দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করলেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশুসহ তিন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। হামলাগুলো কাতারের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে কাতার বলেছে, এসব হামলার সম্পূর্ণ আইনি দায় ইরানের এবং সৃষ্ট সব ধরনের আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ তেহরানকে বহন করতে হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথাও জানিয়েছে দেশটি।
কাতারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও নাগরিকদের জীবন রক্ষায় প্রয়োজন হলে সব ধরনের বৈধ পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য কাতার নয়; বরং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থ। ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যেসব দেশ নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছে, তাদেরকে মার্কিন আগ্রাসনের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তবে ইরানের এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে দোহা। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কাতারের বিমানবন্দর, আবাসিক এলাকা এবং দেশের প্রধান এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রের অত্যন্ত কাছাকাছি আঘাত হেনেছে। তাই ঘটনাকে তারা কাতারের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হামলা এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি জাহাজকে ঘিরে নতুন একটি সামুদ্রিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এটি দ্বিতীয় এমন ঘটনা। জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ ব্যবহার করছিল।
অন্যদিকে ইরানের দাবি, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া ওই রুট ব্যবহার করলে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলসংক্রান্ত সমঝোতা লঙ্ঘিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে এই রুট ব্যবহারে উৎসাহ দিয়ে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছে তেহরান। ফলে কৌশলগত এই নৌপথকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি।