ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিকিম রাজ্যের নামচি জেলায় নির্মাণাধীন তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন। টানা বৃষ্টিপাত, অস্থিতিশীল ভূমি এবং টানেলের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের আশঙ্কার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, সামারদুং এলাকার কাছে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ নির্মাণাধীন টানেলটিতে সোমবার এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় টানেলের ভেতরে ২৫ থেকে ৩৮ জনের মতো মানুষ অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন (এনএইচপিসি) এবং প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রুটিন পরিদর্শনে ছিলেন।
জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা এ পর্যন্ত ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। তবে মাটির প্রায় তিন কিলোমিটার নিচে এখনো অন্তত ১৫ জন আটকা রয়েছেন। নামচি জেলার পুলিশ সুপার সোনম দোলমা ভুটিয়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, সিকিম পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন উদ্ধারকর্মীও আহত হয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টানেলের ভেতরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের পর সুড়ঙ্গটি ধসে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও আটকে পড়াদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।