এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার।
পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ)-এর তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ হিসেবে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে সরকার।
বিগত সরকারের সময়ে অর্থনৈতিক তথ্যে গোঁজামিল ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য উপস্থাপন, আর্থিক খাতের দুর্নীতি, অস্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদহার বৃদ্ধি, বৈদেশিক ঋণগ্রহণের আধিক্য, বেসরকারি বিনিয়োগ ঘাটতিসহ নানা তথ্য উপস্থাপনরে খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে দেশের উত্তোরণ কার্যকর হবে ২০২৯ সালে। এটি বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মর্যাদার বিষয় হলেও, একই সঙ্গে সামনে আসছে কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা। দীর্ঘদিনের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা, কিছু বিশেষ বাণিজ্যিক ছাড় এবং উন্নয়ন সহযোগিতার সুবিধা ধীরে ধীরে কমে যাবে। ফলে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এলডিসি উত্তরণ কোনো সংকট নয়; বরং এটি একটি নতুন বাস্তবতা। তবে এই বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে, ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে হবে, অবকাঠামো উন্নত করতে হবে এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে।
একদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে রপ্তানি খাতে নন-ট্যারিফ বাধা, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) আমাদের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। এখানে ১২টি কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যার প্রতিটিই বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, এর সফল বাস্তবায়নই মূল বিষয়। স্টাডির পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কীভাবে সংস্কারগুলো কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে।
মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত এসব সংস্কারের সুফল পেতে হবে।
বাণিজ্য সহজীকরণ, উদারীকরণ, সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ডব্লিউটিওর এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ) কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসি দেশগুলোকে বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ অর্থায়ন করে থাকে।
বাংলাদেশ ইআইএফের আওতায় ইতোমধ্যে দুটি পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে এবং শেষ হয় ২০১৫ সালে। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালে, যা ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থায়ন সহায়তা পাবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কার্যক্রম চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতি, কৌশল ও পূর্ববর্তী গবেষণার সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিটিআইএস (ডায়গনস্টিক ট্রেড ইনট্রিগ্রেশন স্টাডি) রপ্তানি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্য নীতি, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং বিনিয়োগ সুবিধাবিষয়ক উদ্যোগ থেকে প্রাধান্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫২টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্ভাব্য সহায়তা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনা করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১২টি কার্যক্রমে সীমিত করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচলক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, আমাদের ব্যবসায়ীরা এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত নন। গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী সময়ে শুল্ক সুবিধা না থাকায় বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বছরে ৭ বিলিয়ন ক্ষতি হতে পারে।
এছাড়া জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রেও উন্নয়ন সহযোগিতা কমবে। বিগত সরকারের সময় যে অর্থনৈতিক তথ্য দেওয়া হয়েছিল তা ছিল গোঁজামিল নির্ভর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অর্থনৈতিক ডেটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারে বাংলাদেশ ছিল অন্যতম অগ্রগণ্য দেশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে তারা মনমতো ডেটা ব্যবহার করতো। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরে বাংলাদেশকে কমার্শিয়াল রেটে ঋণ নিতে হবে। যা পরিশোধ করা ও ঋণের শর্ত পূরণ করা কঠিন হবে।
জাতিসংঘ বাংলাদেশের এলডিসি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সংকটে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে। বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি মানদন্ড পূরণ করলেও, সামনে বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে।
এগুলো হলো- বাণিজ্য সুবিধা হারানোর আশঙ্কা, রাজস্ব ও আর্থিক কাঠামোর দুর্বলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতা। এতে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, জ্বালানি নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক সংস্থান বাড়ানোসহ বাংলাদেশকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘ।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (এসএএনইএম)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, বাংলাদেশকে এখন রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এলডিসি-পরবর্তী সময়ে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হবে।
জানাগেছে, বর্তমানে দেশের মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যেখানে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ)’ সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এলডিসি উত্তরণের পর এই সুবিধা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে থাকবে না। ফলে অনেক পণ্যে ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে রপ্তানি ব্যয় বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা আরো বৃদ্ধি পাবে।
শুধু পোশাক নয়, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, কৃষিজাত প্রক্রিয়াজাত পণ্যসহ আরও কয়েকটি রপ্তানি খাত একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। বিশেষ করে ওষুধ শিল্প বর্তমানে পেটেন্ট-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ছাড়ের সুবিধা ভোগ করছে। ভবিষ্যতে সেই সুবিধা কমে গেলে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে এবং নতুন ওষুধ উৎপাদনে অতিরিক্ত লাইসেন্স ও রয়্যালটির প্রয়োজন হতে পারে। কৃষি ও খাদ্যপণ্য রপ্তানিতেও আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হবে। স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) মান পূরণ না করতে পারলে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একইভাবে চিংড়ি ও হিমায়িত মাছ রপ্তানিতে ট্রেসেবিলিটি, নিরাপদ উৎপাদন এবং মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অন্যদিকে এলডিসি উত্তরণের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সুযোগ বাড়বে।
তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
রিভারাইন ফিশ অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান চৌধুরী বলেন, চিংড়ি ও মাছ রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে নতুন বাজার তৈরি হবে। তবে উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো ভ্যালু চেইন আধুনিক করতে হবে।
অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, শুধু শুল্ক সুবিধার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা সম্ভব নয়। মানসম্মত পণ্য, প্রযুক্তি এবং দক্ষতা দিয়েই ভবিষ্যতের বাজার দখল করতে হবে। এ জন্য এখনই সরকারকে সেক্টরভিত্তিক প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি, ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা এবং মূল্য সংযোজনভিত্তিক পণ্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে। এতে নতুন বাজারে প্রবেশ সহজ হবে এবং রপ্তানি আয়ও বাড়বে। এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বীকৃতি। কিন্তু এই অর্জন ধরে রাখতে হলে এখনই প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক সংস্কার, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ। প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারলে এলডিসি-পরবর্তী সময় বাংলাদেশের জন্য শুধু চ্যালেঞ্জ নয়, নতুন সম্ভাবনারও দুয়ার খুলে যাবে।
আর মাত্র কয়েক বছরের অপেক্ষা। এরপরই জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাবে বাংলাদেশ। ২০২৯ সালে কার্যকর হতে যাওয়া এই উত্তরণ দেশের জন্য যেমন একটি ঐতিহাসিক অর্জন, তেমনি অর্থনীতির সামনে হাজির করবে নতুন বাস্তবতা। দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করা শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা, বিশেষ বাণিজ্যিক ছাড় এবং উন্নয়ন সহযোগিতার নানা সুবিধা ধীরে ধীরে কমে যাবে। ফলে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকার বলছে, এলডিসি-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসা সহজীকরণের উদ্যোগ চলছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর অধীন বিভিন্ন সংস্থা এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আওতায় রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, শুল্ক ও করব্যবস্থার সংস্কার, লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখার কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় এখনও অনেক বেশি।
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে পণ্য খালাসে সময় লাগে, পরিবহন ব্যয় বেশি, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ শিল্প খাতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এসব সমস্যা সমাধান না হলে শুধু শুল্ক সুবিধা দিয়ে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।