বজিতে স্বস্তি, তবু বাজারে নাভিশ্বাস—ডিম-মাছ-মুরগির দামে আগুন

ভোরের ডাক ডেস্ক

বাণিজ্য

রাজধানীর বাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও স্বস্তি নেই নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যে। দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম, মাছ

2026-09-04T15:40:10+00:00
2026-09-04T15:40:10+00:00
  শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২১ ভাদ্র ১৪৩৩
 
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাণিজ্য
বজিতে স্বস্তি, তবু বাজারে নাভিশ্বাস—ডিম-মাছ-মুরগির দামে আগুন
ভোরের ডাক ডেস্ক
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর বাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও স্বস্তি নেই নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যে। দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম, মাছ ও মুরগি। এর সঙ্গে নতুন করে বেড়েছে আটা ও চিনির দাম। ভোজ্যতেলের দামও লিটারে ৫ টাকা বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের ওপর ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাড্ডা ও মহাখালীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ডজন ডিম ১৫০ টাকা

বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই দামেই ডিম বিক্রি হচ্ছে। এর আগে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত।

আটার দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্যাকেটজাত দুই কেজির আটা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। কয়েক সপ্তাহ আগেও একই পরিমাণ আটা ১২০ টাকায় পাওয়া যেত। খোলা আটার দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা হয়েছে, যা আগে ছিল ৪৫ টাকা।

মাছ-মুরগিতেও বাড়তি দাম

মাছের বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম উঠেছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

ইলিশের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে। ফলে সীমিত আয়ের অনেক পরিবার মাছ কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।

মুরগির বাজারেও বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গ্যাসসংকটে সরবরাহে প্রভাব

ব্যবসায়ীদের মতে, গ্যাসসংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে আটা, ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো কয়েকটি পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে।

কারওয়ান বাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী বলেন, ভোজ্যতেল, আটা-ময়দা, চিনি, বিভিন্ন ধরনের ডাল, গুঁড়া দুধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পণ্যসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।

সবজিতে মিলেছে কিছুটা স্বস্তি

তবে সবজির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে। সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এক মাস আগে সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছিল।

বর্তমানে পটোল ও ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০, শসা ৫০-৬০, করলা ৮০, বরবটি ও ঝিঙা ৭০-৮০ এবং পেঁপে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া কচুর লতি ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৫৫-৬০, বেগুন ৮০-১০০, কাঁচা মরিচ ১২০-১৬০, টমেটো ও গাজর ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস ৬০-৮০ টাকা, চালকুমড়া ৫০-৬০ টাকা এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০-৫০ টাকায় মিলছে।

পেঁয়াজ ও আলুর দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। মানভেদে পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা এবং আলু ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কমেনি সাধারণ মানুষের বাজারের চাপ

সবজির দাম কিছুটা কমলেও ডিম, মাছ ও মুরগির চড়া দাম এবং আটা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সামগ্রিক বাজারের চাপ কমেনি। ক্রেতাদের মতে, এক-দুটি পণ্যের দাম কমলেই বাজারে স্বস্তি আসবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর বাজার নজরদারি বাড়ানো জরুরি।


Loading...
Loading...

বাণিজ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: