সারাক্ষণ ঘুম পায়? হতে পারে যেসব রোগের ইঙ্গিত

লাইফস্টাইল ডেস্ক

জীবনযাপন

ঘুম শরীরের জন্য মোটেই হেলাফেলার বিষয় নয়, ঘুমের প্রয়োজন আছে। পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও যদি দিনের বেশির ভাগ সময় ঘুম ঘুম

2026-07-20T16:01:22+00:00
2026-07-20T16:01:22+00:00
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
জীবনযাপন
সারাক্ষণ ঘুম পায়? হতে পারে যেসব রোগের ইঙ্গিত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:০১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ঘুম শরীরের জন্য মোটেই হেলাফেলার বিষয় নয়, ঘুমের প্রয়োজন আছে। পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও যদি দিনের বেশির ভাগ সময় ঘুম ঘুম লাগে, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি শুধু অলসতার লক্ষণ নয়; বরং জীবনযাপনের অনিয়ম, ঘুমের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কিংবা ডায়াবেটিস, রক্তশূন্যতা, থাইরয়েড, কিডনি বা লিভারের রোগের মতো নানা শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ করা, নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব, রাতের শিফটে কাজ করা বা একই ধরনের একঘেয়ে কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ নষ্ট হতে পারে। ফলে দিনের বেলায় অতিরিক্ত তন্দ্রাভাব দেখা দেয়।

থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এতে ক্লান্তি, অবসাদ ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ে। একইভাবে ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কমে গেলেও দুর্বলতা ও তন্দ্রাভাব দেখা দিতে পারে।

কিডনি বা লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলেও সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব অনুভূত হতে পারে।

এ ছাড়া ডায়রিয়া, বমি, অতিরিক্ত ঘাম কিংবা পর্যাপ্ত পানি পান না করার কারণে পানিশূন্যতা তৈরি হলে ক্লান্তি ও তন্দ্রাভাব বাড়ে। রক্তশূন্যতার কারণে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছালেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ভাইরাসজনিত সংক্রমণের সময় বা সুস্থ হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অবসাদ থাকতে পারে। আবার রাতে ভালোভাবে ঘুম না হওয়া বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যায় ঘুমের সময় বারবার শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হলে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পেতে পারে।

অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং অ্যালার্জি, ঠান্ডা, ব্যথানাশক বা উদ্বেগ কমানোর কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত তন্দ্রাভাবের সঙ্গে সবসময় ক্লান্ত লাগা, মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার মতো উপসর্গও থাকতে পারে।

এ সমস্যা কমাতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

তবে যদি দুই থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব স্থায়ী হয়, স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায় বা এর সঙ্গে অন্য শারীরিক উপসর্গ যুক্ত হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ নির্ণয় করে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।


Loading...
Loading...

জীবনযাপন- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: