ক্যানসার মানেই মৃত্যু! এমন ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, থাইরয়েড ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফল চিকিৎসা সম্ভব। তাই গলায় অস্বাভাবিক ফোলা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন বা খাবার গিলতে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ক্যানসার নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও নানা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সব ধরনের ক্যানসার সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়। বিশেষ করে থাইরয়েড ক্যানসার শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে অস্ত্রোপচারসহ আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
ভারতের নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. কার্তিক কৃষ্ণন ব্লেনের ভাষ্য, অধিকাংশ থাইরয়েড ক্যানসার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। ফলে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসা সহজ হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, থাইরয়েড ক্যানসারের সব ধরন এক নয়। তাই সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গলায় দীর্ঘদিন ধরে ফোলা বা গিঁট, কণ্ঠস্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া, স্বরের পরিবর্তন কিংবা খাবার গিলতে অসুবিধার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করার সুযোগ বাড়ে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, ক্যানসার কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং চিকিৎসা করালে এটি শরীরে আরও ছড়িয়ে পড়ে—এমন ধারণারও কোনো ভিত্তি নেই। বরং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। হারবাল, ঝাড়ফুঁক বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন বিকল্প চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে মূল চিকিৎসা বিলম্বিত হয়ে রোগের জটিলতা বাড়তে পারে।
চিকিৎসা শেষ হলেও ক্যানসারজয়ীদের নিয়মিত ফলোআপ, মানসিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্য পরিহার, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ দূষণ থেকে সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষুধামান্দ্য, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, শরীরের কোনো অংশ ফুলে ওঠা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা গিলতে সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হতে পারে জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।