বাজারে পাওয়া অনেক ফেসওয়াশে সালফেট, প্যারাবেন ও কৃত্রিম সুগন্ধি থাকে, যা নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহারে অনেকের ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। তাই ত্বকের ধরন বুঝে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র এক প্রতিবেদনে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ঘরে ফেসওয়াশ তৈরির কয়েকটি উপায় তুলে ধরা হয়েছে।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত সেবাম বা তেল উৎপাদনের কারণে ব্রণ ও র্যাশের সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে। এ ধরনের ত্বকের জন্য বেসন ও হলুদের ফেসওয়াশ উপকারী হতে পারে।
এটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে—
২ চামচ বেসন
* আধা চা-চামচ নিমপাতার গুঁড়া বা পুদিনাপাতা বাটা
* সামান্য হলুদগুঁড়া
* প্রয়োজনমতো গোলাপজল
সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে হালকা হাতে মালিশ করতে হবে। ৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বেসন ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণে সাহায্য করে এবং হলুদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণের সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
শুষ্ক ত্বকের জন্য
শুষ্ক ত্বক পরিষ্কারের পর অনেক সময় টানটান অনুভূত হয় এবং চামড়া ওঠার সমস্যা দেখা দেয়। তাই এমন উপাদান দরকার, যা ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি আর্দ্রতাও ধরে রাখবে।
এ জন্য প্রয়োজন—
* ১ চামচ মিহি ওটসের গুঁড়া
* ১ চামচ মধু
* ১ চামচ কাঁচা দুধ
সব উপাদান মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এরপর মুখ ও গলায় বৃত্তাকারে হালকা হাতে মালিশ করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ওটস প্রাকৃতিক স্ক্রাবের মতো কাজ করে এবং দুধ ও মধু ত্বক নরম রাখতে সাহায্য করে।
স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য
সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এমন উপাদান ব্যবহার করা উচিত, যা ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করে না। যাদের অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে, তাদের উপাদান নির্বাচনে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এ ধরনের ত্বকের জন্য তৈরি করতে পারেন—
* ২ চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল
* ২ চামচ ঠান্ডা করা গ্রিন টি
* ২ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল
প্রথমে গ্রিন টি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে। এরপর অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান। ৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
তবে নতুন কোনো উপাদান ত্বকে ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। ত্বকে অস্বস্তি, জ্বালা বা অ্যালার্জি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।