লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। খাবার হজমে সহায়তা, শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান অপসারণ এবং বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু শুধু মদপানই নয়, প্রতিদিনের কিছু খাবার ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনও নীরবে লিভারের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণেই ফ্যাটি লিভারকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, বর্তমানে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি)-এর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ না থাকলেও সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি লিভারে প্রদাহ, সিরোসিস এবং কিছু ক্ষেত্রে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
চিনিযুক্ত পানীয়ে বাড়ছে ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক এবং বাজারজাত ফলের রসে উচ্চমাত্রার চিনি, ফ্রুক্টোজ ও কৃত্রিম উপাদান থাকে। নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার আশঙ্কা বাড়ে।
তাই বাজারজাত পানীয়ের বদলে ঘরে তৈরি লেবুর শরবত, লস্যি বা কম চিনিযুক্ত স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
জাঙ্ক ফুডেও সতর্কতা
পিজা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, প্যাকেটজাত স্ন্যাকসসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকে অতিরিক্ত চর্বি, লবণ ও ক্যালোরি। নিয়মিত এসব খাবার খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি, ফ্যাটি লিভার এবং অন্যান্য বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজন ছাড়া বা সঠিক মাত্রা না জেনে ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবন লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই যেকোনো ওষুধ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।
ভেষজ সাপ্লিমেন্টও হতে পারে ক্ষতিকর
অনেকেই ভেষজ বা হারবাল সাপ্লিমেন্টকে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করেন। তবে চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, কিছু ভেষজ উপাদানও লিভারের ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিতভাবে সেবন করলে।
লিভার সুস্থ রাখতে যা করবেন
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান।
সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ভেষজ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন না।
হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নিন এবং নিরাপদ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি গ্রহণ করুন।
প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
চিকিৎসকদের মতে, লিভারের অনেক রোগই দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ ছাড়াই অগ্রসর হয়। তাই সুস্থ জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই লিভার সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।