বগুড়ার ধুনটে সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার থেকে ফায়ার সার্ভিসের এক গাড়িচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। এদিকে, নিহতের গ্রামের বাড়িতে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।
শনিবার ধুনট উপজেলার সরকারি আবাসন স্টাফ কোয়ার্টার থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক শিহাব উদ্দিন সরকার (৪৩)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের নাংলু গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে এবং সিরাজগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও, এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, রোববার বিকেলে নিহতের গ্রামের বাড়ি নাংলুতে তথ্য সংগ্রহ করতে যান কয়েকজন সাংবাদিক। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেন এবং সংবাদ প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ এবং প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের হুমকির অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।