অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে নেওয়া
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশজুড়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের উন্মাদনা নতুন মাত্রা পায়। সেই আবহ থেকে দূরে নন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমাও। ছোটবেলার স্মৃতি, পরিবারের প্রভাব এবং দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসা—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার প্রতি তার সমর্থন আজও অটুট।
সম্প্রতি প্রথম গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পূর্ণিমা জানান, ছোটবেলায় বিশ্বকাপ মানেই ছিল চারপাশে ম্যারাডোনাকে নিয়ে আলোচনা। চট্টগ্রামের মেয়ে হলেও বাবার চাকরির সুবাদে তিনি ঢাকার পিজি হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে বেড়ে ওঠেন। সে সময় আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা না থাকলেও চারদিকে আকাশি-সাদা পতাকা, ভবনে রং করার প্রতিযোগিতা এবং মানুষের উৎসবমুখর পরিবেশ তাকে আর্জেন্টিনার প্রতি আকৃষ্ট করে। এর সঙ্গে পরিবার, বিশেষ করে মা–বাবার ম্যারাডোনা-ভক্তিও তার সমর্থনের বড় কারণ হয়ে ওঠে।
ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে নেওয়া
স্মৃতিচারণ করে পূর্ণিমা বলেন, ছোটবেলায় তিনি বুঝতেই পারতেন না বিশ্বকাপ চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। তবে আশপাশের সবাইকে ম্যারাডোনার নাম বলতে শুনতেন। তখন ম্যারাডোনা কে বা আর্জেন্টিনা কোন দেশ—এসবও তার জানা ছিল না। কিন্তু মানুষের উচ্ছ্বাস, ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল নিয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন ভবনে আকাশি-সাদা কিংবা হলুদ-সবুজ রঙের সাজসজ্জা দেখে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তার ভাষায়, বিশ্বকাপের সময় অনেক ছাদে বাংলাদেশের পতাকার চেয়েও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা বেশি চোখে পড়ত। সেখান থেকেই আর্জেন্টিনাকে চিনেছেন এবং পরিবারের সবাই ম্যারাডোনার সমর্থক হওয়ায় তিনিও সেই দলের ভক্ত হয়ে ওঠেন।
ব্রাজিলের পরিবর্তে কেন আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে পূর্ণিমা বলেন, আর্জেন্টিনার দলে ম্যারাডোনা ছিলেন, এখন আছেন লিওনেল মেসি—যা তার কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয়।
ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে নেওয়া
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে তার উচ্ছ্বাস আরও বেড়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তার স্বামী আশফাকুর রহমান। আর্জেন্টিনার নিবেদিত সমর্থক আশফাকুর বন্ধু-স্বজনদের প্রিয় দলের জার্সি উপহার দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও নতুন জার্সি কিনেছেন।
পূর্ণিমা জানান, আগে ফুটবল নিয়ে তার আগ্রহ থাকলেও এখন স্বামীর উৎসাহে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ আরও বেশি উপভোগ করেন। তিনি বলেন, স্বামী নিয়মিত জার্সি কেনেন, অন্যদের উপহার দেন, এমনকি যারা আর্জেন্টিনার সমর্থক নন, তাদেরও মজা করে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে দেন। সেই আনন্দঘন পরিবেশেই এখন তিনিও জার্সি পরে খেলা দেখেন, যা আগে কখনো করতেন না।
ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে নেওয়া
অভিনয়জীবনের দিক থেকেও পূর্ণিমা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল অভিনেত্রী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। ১৯৯৮ সালের ১৫ মে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমায় রিয়াজের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয়। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি।
এরপর ‘যোদ্ধা’, ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘পিতা-মাতার আমানত’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘বিয়ের প্রস্তাব’, ‘মনের মাঝে তুমি’ এবং ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’-সহ একের পর এক জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডের প্রথম সারির নায়িকাদের একজন হয়ে ওঠেন। কাজী হায়াত পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন।
ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে নেওয়া
বর্তমানে অভিনয়ে আগের তুলনায় কম নিয়মিত হলেও বিনোদন অঙ্গন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি পূর্ণিমা। তার অভিনীত ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেছেন ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘আহারে জীবন’ চলচ্চিত্রে। এরই মধ্যে নতুন সিনেমার প্রস্তাবও পাচ্ছেন তিনি। তবে নিজের পছন্দের গল্প ও চরিত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮